এদিন শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি কমিশনকে নির্দেশ দেন, “কোনও ব্যক্তি যখন আবেদন করছেন, তখন তাঁর সম্পর্কে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তার কারণ উল্লেখ করে রিমার্কস দিতে হবে।”
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও আবেদনকারী যে কাগজপত্র জমা দেবেন, তার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল যেন সিদ্ধান্ত নেন।”
advertisement
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে যে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিরা রয়েছেন, তাঁদের যোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে আমাদের কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু তাদের এমন একটি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যে কাজ আগে তাঁরা কখনও করেননি।” কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি জানতাম না যে সফটওয়্যারে এমন একটি কলাম আছে, যেখানে কারণ দর্শানোর সুযোগ আছে। প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তার কারণ সেখানে উল্লেখ করা হোক।”
কমিশনের আইনজীবী তখন বলেন, “আমরা অ্যাপলেট বডির সামনে সমস্ত রেকর্ড রাখব।”
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “যেখানে কোনও ডকুমেন্টসের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তা ভেরিফাই করা হবে।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “সফটওয়্যারে কারণ দর্শানোর জন্য একটি কলাম আছে। কেন নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বা বাদ যাচ্ছে, তা উল্লেখ করার সুযোগ রয়েছে। যে ব্যক্তি আবেদন করছেন, তাঁকে কারণ উল্লেখ করতে হবে।”
কথা প্রসঙ্গেই বিচারপতি বলেন, “কীসের ভিত্তিতে এই ভোট হচ্ছে তা আমরা দেখতে চাই। কোনও ব্যক্তি যদি ভোট দিতে না পারেন, সেটা তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়। কোনও ব্যক্তির নাম বাদ যেতে পারে কিন্তু পরে অ্যাপেলেট তাঁর নাম যুক্ত করতে পারে। একইভাবে কোনও ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে তাঁর নাম বাদ যেতে পারে অ্যাপলেট এর মাধ্যমে। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলে তার অর্থ এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরকালের জন্য চলে গেল।”
শুধু তাই নয়, এদিন শুনানি চলাকালীন ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেছেন, ‘‘কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই মনে রাখতে হবে—কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে।’’
বিচারপতি বাগচির মন্তব্য, ‘‘সাপ্লিমেন্টারি তালিকার বাইরেও কেউ বৈধ ভোটার থাকে, তাঁর ভোটার তালিকায় স্থান না পাওয়া এবং ভোট দিতে না পারা তো তাঁদের অধিকারকে খর্ব করা। তাঁরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন কেন? ’’
আদালতের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের আইনজীবী জানান, ‘‘নমিনেশনের শেষ দিন পর্যন্ত নতুন নাম তোলা সম্ভব। সেই প্রভিশন রয়েছে৷ নমিনেশনের শেষ দিন পর্যন্ত সেটা করা যাবে। ’’ এরপরেই বিচারপতি বাগচি জানান, ‘‘ কাট অফ ডেটের আগে যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁরা নাম তুলতে আবেদন করতে পারবেন। তার পরে নয়।’’
ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও (ভোটার তালিকায় নাম তোলার) অধিকার আছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তা কেউ বাধা দিতে পারে না।’’
