জানা যাচ্ছে, এদিন স্কুল চলাকালীন ক্লাসের ফাঁকে শৌচালয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র গৌরব টুডু। কিন্তু তাকে শৌচালয়ে রেখেই ছুটি হওয়ার পর স্কুল বন্ধ করে যে যার মতো বাড়ি চলে যান শিক্ষকরা। এদিকে শৌচালয় থেকে চিৎকার, চেঁচামেমি শুরু করে পড়ুয়া। কিন্তু স্কুলটি জনশূন্য এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শিশুর কান্নাকাটি কারুর কানে পৌঁছায়নি। অন্ধকার ও দুর্গন্ধময় বাথরুমে যেন ক্রমশ গিলতে আসে তাকে। বেরনোর প্রাণপণ চেষ্টা চালায় সে। বুদ্ধি করে বাথরুমের দেওয়াল বেয়ে ঘুলঘুলির কাছে এসে চিৎকার করে। অবশেষে শিশুর কাতর কান্না কানে পৌঁছয় স্থানীয় এক যুবকের।
advertisement
কয়েকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে ইউসুফ আলি নামের ওই যুবক তড়িঘড়ি স্কুলে এসে আটক ছাত্রকে উদ্ধার করে। খুদে পড়ুয়া জানায়, ‘শৌচকর্ম সেরে বেরোতে গিয়ে সে দেখে বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। শুরু হয় ডাকাডাকি। চিৎকার। কান্নাকাটি।
ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ স্কুলে পৌঁছান প্রধান শিক্ষক। আসেন গঙ্গারামপুরের বিডিও (BDO) অর্পিতা ঘোষাল। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? কেন স্কুল ভাল করে পরীক্ষা না করে তালাবন্ধ করা হল? প্রধান শিক্ষককে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিডিও। প্রধান শিক্ষক বিজয় বর্মন জানান, স্কুলের সব কক্ষ, শৌচালয় পরীক্ষা করেই তালাবন্ধ করা হয়। কিন্তু কীভাবে এদিন এমনটা ঘটল তা বুঝতে পারছেন তিনি।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। স্কুলের শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে স্কুলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিভাবকরা।
