মূলত স্থানীয় রাজবংশী ও সূত্রধর সম্প্রদায়ের শিল্পীরা গামার, নিম বা আম কাঠ দিয়ে তৈরি করেন। এই মুখোশগুলি ‘গোমিরা’ নাচে ব্যবহৃত হয়। ভারত সরকারের জিআই তকমা পেয়েছে মহিষবাথানের মুখোশও। তবে জিআই তকমাতেও ফেরেনি মুখোশ শিল্পীদের ভাগ্য। অনুন্নয়নের অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে শিল্পীদের ভবিষ্যৎ। বহু শিল্পী মুখোশ বানানো ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন।
advertisement
দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডিকে বলা হয় লোকসংস্কৃতি ও লোকশিল্পের বিচরণ ক্ষেত্র। বর্ষার মরশুম ছাড়া বছরের বাকি সময় কুশমন্ডি ব্লকের গ্রাম আলো করে রাখে গমীরা নাচ। তবে শিল্পের নেপথ্যে থাকা কারিগরদের জীবন আজ ঘোর আর্থিক সঙ্কটে নিমজ্জিত। ইউনেস্কো এবং রাজ্য সরকারের ‘বিশ্ববাংলা’র হাত ধরে এই শিল্প আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেলেও, প্রান্তিক শিল্পীদের ঘরে আজও অভাবের অন্ধকার। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কুশমন্ডির মুখোশ শিল্পীদের হাসি।
মুখোশ তৈরির মূল উপকরণ গামারি কাঠ। বর্তমানে এই কাঠের দাম আকাশছোঁয়া। যার ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। পুঁজির অভাবে শিল্পীরা পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলার এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতি ও কাঠের কাজকে টিকিয়ে রাখতে হলে শিল্পীদের জন্য সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা, সহজ শর্তে ঋণ এবং কাঁচামালের সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন। নচেৎ, অর্থাভাবে কুশমন্ডির ঐতিহ্যবাহী মুখোশ শিল্প ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাবে।
