স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈধ অনুমতি নিয়েই এদিন জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন রামপদ ও তাঁর সঙ্গীরা। সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে কাঁকড়া ধরার সময় আচমকাই একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হন রামপদ। সঙ্গে থাকা অন্য মৎস্যজীবীরা প্রাণপণ লড়াই করে বাঘটিকে তাড়িয়ে দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করে নৌকায় তোলা হয়। দ্রুত গ্রামে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
advertisement
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।বন দফতর সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পারমিট নিয়েই ওই মৎস্যজীবীরা কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বৈধ অনুমতি নিয়েই জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন মৃত ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গীরা। বন দফতরের নিয়ম মেনেই তাঁরা কাঁকড়া সংগ্রহ করছিলেন। হঠাৎ বাঘের আক্রমণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি জঙ্গলে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের জন্য মৎস্যজীবীদের বারবার সচেতন করা হচ্ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
উল্লেখ্য, সুন্দরবন এলাকায় বাঘের আক্রমণের ঘটনা নতুন নয়। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন বহু মানুষ গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করেন। বন দফতরের পক্ষ থেকে সুরক্ষা বিধি মেনে চলার নির্দেশ থাকলেও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঝুঁকি থেকেই যায়।
মৃত রামপদ বর্মনের পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। একমাত্র রোজগেরে সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবারটি। মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। গোটা এলাকায় নেমে এসেছে তীব্র শোক ও আতঙ্ক।






