২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ও তৎকালীন রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেবকে পরাজিত করেন শিখা। তারপর পাঁচ বছর বিধায়ক থাকার পরে এবারও বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেছে৷ ফলে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নিজের সমীকরণ বদলেছে৷ এবার প্রার্থী করা হয়েছে রঞ্জন শীল শর্মাকে। তবে এখানেই আসল গল্প, একসময় শিখা চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে তাঁরই হাত ধরে উঠে আসা মুখ হল রঞ্জন শীল শর্মা। শুধু তাই নয় রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সকলেই তাঁকে শিখার রাজনৈতিক ছেলে বলেই চিনে এসেছেন দীর্ঘদিন।
advertisement
এই পরিস্থিতিতে ভোটের ময়দান যেন মা ও ছেলের লড়াই দেখতে মুখর। যদিও শিখা চ্যাটার্জি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সম্পর্ক এবং রাজনীতি আলাদা, তবুও তাঁর কথায় উঠে এসেছে আবেগের সুর, তিনি মনে করেন, ‘‘নিজের গড়ে তোলা মানুষকে নিজের ভাবনায় রাখতে পারেননি।’’
প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই শিখা চট্টোপাধ্য়ায়ের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে সেই আক্ষেপ, ‘‘আমার মনের ভিতর একটা ক্ষোভ রয়েছে, আমি আমার ছেলেকে আমার ভাবনায় আনতে পারলাম না।’’ তবে তিনি আশাবাদী ভবিষ্যতে রঞ্জন নিজের ভুল বুঝে তার পথেই ফিরে আসবে।
এখন দেখার শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে জয়ী হবেন কে, ‘রাজনৈতিক মা’, না ‘প্রতিপক্ষ ছেলে”? তার উত্তর দেবে ভোটবাক্সই।