কৃষ্ণ কল্যাণীর কথায়, বিধায়ক হিসেবে নিজ বিধানসভা এলাকার মানুষদের উন্নয়ন করা তাঁর কর্তব্য। বিগত বছরগুলিতে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই কারণে রায়গঞ্জের মানুষ তাঁর পাশে থাকবে বলে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
রায়গঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, ১৭ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচে রায়গঞ্জের জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ১৬৩টি নিকাশিনালা নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই নির্মিত হয়েছে ৬৭৩টি নতুন রাস্তা। এর পাশাপাশি ১৭৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে ১০৯টি বড় রাস্তার জন্য।
advertisement
এখানেই শেষ নয়! কৃষ্ণ কল্যাণী জানান, ২.৮ কোটি টাকা খরচ করে ট্যাগরা ব্রিজ তৈরি হয়েছে। শুরু হয়েছে রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাজ। এছাড়াও কৃষকদের সোলার সিস্টেম, ৩০,০০০ টাকার পাইপ ও উন্নত সেচ সামগ্রী দেওয়া, নদীর পাড় বাঁধানো সহ রায়গঞ্জে একগুচ্ছ কাজ হয়েছে। সব মিলিয়ে, নিজের বিধায়ক তহবিলের অধিকাংশ অর্থই খরচ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি রাজ্যের নানা দফতর থেকে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ নিজ বিধানসভায় করিয়েছেন।
জানা যাচ্ছে, বিধায়ক হিসেবে কৃষ্ণ কল্যাণীর এই উন্নয়নের প্রচেষ্টা এলাকাবাসীদের নজর এড়ায়নি। তাঁদের অনেকের মতে, রায়গঞ্জের বর্তমান বিধায়কের হাত ধরে শহরের যানজট-যন্ত্রণায় রাশ টানতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরের পাবলিক বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
রায়গঞ্জের বিধায়কের এই কর্মকাণ্ডে অবশ্য সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজের দাবি, বিধায়ক অনেক কাজের দাবি করলেও বাস্তবে মানুষ সুফল পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সিপিএমের জেলা সম্পাদক আনওয়ারুল হকের কথায়, রাজ্যের নানা দফতরের কাজ বিধায়ক নিজের বলে দাবি করলে কিছু বলার নেই। উনি বিধায়ক ফান্ড থেকে কী কাজ করেছেন, সেটা আমরা তেমন লক্ষ্য করিনি।
সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমজমাট রাজ্য রাজনীতি। রায়গঞ্জেও জমে উঠেছে শাসক-বিরোধীর তরজা। শেষ হাসি কে হাসে সেটাই দেখার।
