শেষ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর পরিবার পুরুলিয়া এই হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক ডঃ পবন মন্ডলের শরণাপন্ন হন। রোগীর পরীক্ষা করার পর তাঁরা বুঝতে পারেন সমস্যাটি অ্যাপেন্ডিক্সের। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স শরীরের ডান দিকে থাকলেও শ্যামলী দেবীর ক্ষেত্রে তা ছিল সম্পূর্ণ উল্টোদিকে অর্থাৎ বাম দিকে। এখানে শরীরের অভ্যন্তরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি স্বাভাবিক অবস্থানের ঠিক বিপরীতে থাকে। এমন অপারেশন চিকিৎসকদের কাছে বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সামান্য ভুলেও যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রোগ নির্ণয়ের পর আর দেরি করেননি চিকিৎসক ও তাঁর টিম।
advertisement
আরও পড়ুন: দেওয়াল লিখন তো দূর, নেতাদের ছায়াও দেখেননি কেউ! কেতুগ্রামের বিধানপল্লী যেন এক ভিনগ্রহের গ্রাম
মাত্র দু ঘন্টার ব্যবধানে সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে এই বিরল অস্ত্রপচার করেন ডঃ পবন মণ্ডল ও তাঁর টিম। আর তাতেই বিরাট সাফল্য মিলল। বর্তমানে ওই রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। এ বিষয়ে ডঃ পবন মণ্ডল বলেন, এই ধরনের অপারেশন খুবই বিরল। দশ হাজার জনের মধ্যে একজনের হয়ে থাকে। তাই যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করে রোগীর অস্ত্রপচার করেছি। রোগী বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অন্যদিকে এই বিষয়ে রোগীর স্বামী বিপিন বিহারী মাহাতো বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। কিন্তু কোনও ভাবেই রোগ ধরা পড়েনি। শেষ পর্যন্ত পবন মন্ডলের কাছে এসে তাঁর স্ত্রীর রোগ মুক্তি হয়েছে। ডঃ পবন মন্ডল আমাদের কাছে ভগবান। যে রোগের হদিশ বড় বড় জায়গায় মেলেনি, তা পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো যে দিনে দিনে উন্নত হচ্ছে এবং জেলার চিকিৎসকরা যে কোনও বড় চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত, এই ঘটনা তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ।