কিন্তু কে এই পবিত্র কর? নন্দীগ্রাম আসনটি তৃণমূল ও বিজেপির কাছে মর্যাদার লড়াই। সেই লড়াইয়ে পবিত্র করের কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুকে হারাতে পারলেই জায়ান্ট কিলার হয়ে উঠবেন। বিজেপি করতেন পবিত্র। গত মঙ্গলবার সকালেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। আর তারপরেই তৃণমূলের হয়ে খোদ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী।
advertisement
এ প্রসঙ্গে প্রথমেই বলে রাখা যাক, সাম্প্রতিক কালে শুভেন্দু অধিকারী যে হিন্দুত্বের রাজনীতি করছেন, পবিত্র করও সেই কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতিই করে এসেছেন এত কাল। নন্দীগ্রামের বিজেপি কর্মীরাও বলেন, পবিত্রর সংগঠন চালানোর দারুণ দক্ষতা আছে। জানা যায়, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে যে স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়েছিল,তার অন্যতম কারিগর ছিলেন এই পবিত্র করই।
শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন পবিত্র। তমলুক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি সহ সভাপতি ছিলেন। গেরুয়া শিবিরে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে সেই পবিত্র এখন তৃণমূলে। তাও আবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী। অতীতে অবশ্য পবিত্র তৃণমূল কংগ্রেসেই ছিলেন। ২০২০ সালে যখন শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি-তে যোগ দেন, তার কিছুদিন পরেই পবিত্রও বিজেপি-তে চলে যান। শুভেন্দু অধিকারীকে ২০২১ সালে মমতার বিরুদ্ধে জিততেও সাহায্য করেন। বিজেপি-তে গিয়ে কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতি শুরু করেন। নিজের একটি সংগঠন গড়েছিলেন, তার নাম সনাতনী সেনা। হিন্দুভোট একত্রিত করে শুভেন্দুকে জিতিয়ে দেওয়ার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনিই।
পবিত্র করকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করার পিছনে রয়েছে বড় দুটি কারণ। প্রথমত, শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন পবিত্র। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে নন্দীগ্রামে হিন্দুভোট একত্রিত করেছিলেন তিনিই। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল বার্তা দিল, শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে ঢুকে তাঁর ঘর ভেঙে শীর্ষস্থানীয় নেতাকে তুলে তাঁকেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হল। নন্দীগ্রামের ভোটিং ট্রেন্ড জানেন পবিত্র। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাই তুরুপের তাস হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে নিজে যেহেতু প্রার্থী, তাই নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে চাইবেন পবিত্র। সেই কারণেই নন্দীগ্রাম হয়ে উঠবে মেগাফাইটের ময়দান।
