২০১১ সালে পালাবদলের সরকার আসার সময় নন্দকুমার ব্লকের পুরষাঘাট এবং ময়না ব্লকের মধ্যে কংক্রিট ব্রিজে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তারপরে পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো নির্বাচন। প্রতিশ্রুতি একপ্রকার ভোট বৈতরণী পার ছাড়া আর কিছুই না সাধারণ মানুষের কাছে। কারণ নন্দকুমার ব্লক ও ময়না ব্লকের মধ্যে এই কাঁসাই নদীতে এখনও তৈরি হয়নি ব্রিজ। ভরসা সেই বাঁশের সাঁকো। প্রতিনিয়ত দুটি ব্লকের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। শুধু তাই নয় ছোট মালবাহী গাড়ি থেকে নানান ধরনের গাড়ি যাতায়াত করছে প্রতিনিয়ত। একপ্রকার প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে ওই দুই ব্লকের মানুষের দাবি ছিল ওই জায়গায় কংক্রিট ব্রিজের
advertisement
মানুষের এই দাবিকে নিজেদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি হিসাবে কাজে লাগিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
তাই পরপর কয়েকটি নির্বাচন গেলেও এই জায়গায় বর্তমানে ভরসা সেই বাঁশের সাঁকো। আর বর্ষাকালে জলভরা যৌবনবতী নদীতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নৌকো ছাড়া গতি নেই। ময়না ব্লকের উত্তম মাইতি জানান, “
প্রতিদিন এই সাঁকো পেরিয়ে নিমতৌড়ি ও তমলুকে যাতায়াত করতে হয়। বছরের পর বছর বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়ে আসছি। ভোট এলেই ব্রিজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।”
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভাকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ পুরষাঘাট ব্রিজ তৈরির নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ।
বাধ্য হয়ে দিনের পর দিন বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়েই প্রতিদিন পারাপার করেন কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে ময়না বিধানসভার পূর্ব দক্ষিণ ময়না, সামগঞ্জ ও লালুয়াগেড়া এলাকার বাসিন্দারা জীবিকার তাগিদে পান, মাছ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সামগ্রী নিয়ে যাতায়াত করেন। স্কুল পড়ুয়াদেরও একই সাঁকো পেরিয়ে যেতে হয়। এমনকি রোগী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো ভরসা। কাঁসাই নদীর উপর এই সংযোগ সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার উন্নয়নে নেই কোনও স্থায়ী উদ্যোগ। বহুবার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি শূন্য।