জেলা প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
সোমবার রাতে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থাকা ভোটারদের একটা অংশের নাম তালিকায় বেরিয়েছে। তাতে নাম নেই বর্ধমান ২ ব্লকের চাকুন্দি শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরের শেখ ফিরোজ হোসেনের।শনিবার বর্ধমানের টাউন স্কুলে প্রিসাইডিং অফিসারের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য কমিশনের চিঠি পেয়েছেন তিনি।
তাঁর কথায়,১৯৫২ সালে আমার দাদু ভোট দিয়েছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে আমি ভোট দিচ্ছি। সব নথি জমা করেছি। কিন্তু নাম নেই। তাঁর টিপ্পনি,যে কমিশন আমাকে ভোটার বলে স্বীকৃতি দিল না, সেই কমিশনই ভোটকর্মী বলে নিয়োগ করছে!
advertisement
তালিত গৌড়েশ্বর হাই স্কুলের শেখ রবিয়েল হোসেনের প্রথম পোলিং অফিসার হিসাবে চিঠি এসেছে। তাঁর নামও ‘বিবেচনাধীন’। তিনি বলেন, ‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। তার পরেও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে কমিশন। তাহলে কোন লজ্জায় ভোটকর্মী হওয়ার জন্য ডাকছে?”
এর থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল বর্ধমানের পীরবাহারম এলাকার বাসিন্দা আয়ূব আলি যিনি হুরিয়া পাবলিক স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে ডিলিটেড হয়ে গেলেও প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর কাছেও চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আয়ূব আলি জানান, তাঁর নাম বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ২০১ নং বুথের ১২৮ নং সিরিয়ালে নাম ছিলো।শুনানী ও পরবর্তীতে ‘বিচারাধীন’ হিসাবে ভোটার তালিকায় থাকার পর সোমবার প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম বাদ হয়ে গেছে।এরমধ্যেই তিনি আবার ভোটকর্মী হিসাবে দায়িত্বপালনের চিঠি পেয়েছেন।এখন তাঁর প্রশ্ন যেখানে আমার নামই ভোটার তালিকায় নেই,আমি নিজেই ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকারী নই সেখানে আমি কি করে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করবো?এটা কি সাজে!”
একইসঙ্গে তার প্রশ্ন, “শুধু তাই নয়,নির্বাচন কমিশনের তরফে আমাদের পোস্টাল ব্যালটের ফর্ম দেওয়া হয়েছে,সেই বিষয়ে আমাদের করণীয় কর্তব্য কি?”
