পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা এসে তাদের পাকড়াও করে। পরে বর্ধমান থানার পুলিশের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়। ওই রিভলভার আসলে খেলনা বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। বুধবার মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে বর্ধমানের উদয়পল্লি শিক্ষা নিকেতন হাই স্কুলের এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বুধবার ছিল মাধ্যমিকের জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষা। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, একটি মোটর সাইকেলে এসেছিল তিন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে মাঝের জন মাথার উপরে রিভলভার উঁচিয়ে ঘোরাচ্ছিল। তাদের পরনে ছিল সাদা জামা কালো প্যান্ট। এই কিশোরদের হাতে মোটর সাইকেল, রিভলভার দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সকলেই। স্কুলের সামনে পৌঁছে শুরু হয় তাদের কেরামতি। এবার শুরু হয় রিভলভার লোফালুফি খেলা। দেখানো হয় টার্গেট ফিক্সড। শুধু ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ রেঞ্জ থেকে অপারেশন শেষ করার অপেক্ষা। তা দেখেই পরিমরি করে এলাকা ছাড়েন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। অনেকেই সন্তানকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দিয়ে ওই কিশোরগের গতিবিধির উপরে নজর রাখেন।
advertisement
ইতিমধ্যে খবর যায় বর্ধমানের উদয়পল্লি শিক্ষা নিকেতন হাই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে। শিক্ষকদের কয়েক জন সাহস নিয়ে এগিয়ে আসেন। তখন যাবতীয় জারিজুরি শেষ হয়ে যায় তিন ‘গ্যাংস্টারে’র। তারা স্বীকার করে, খেলনা পিস্তল নিয়ে মজা করতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। ওই খেলনা পিস্তল বাজেয়াপ্ত করেন শিক্ষকরা। এরপর ওই তিন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়।
স্কুল চত্বরে উপস্হিত অভিভাবকরা বলছেন, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের এ ধরনের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। তাও আবার পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এই ঘটনা কখনওই বরদাস্ত করা উচিত নয়৷ এতে ওই পরীক্ষার্থীরা তো বটেই, অন্যান্য পরীক্ষার্থীদেরও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে৷ তার উপর যে স্কুলে তারা পড়ে, সেই স্কুলেরও বদনাম হল। যদিও ওই তিন কিশোরের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়৷
