জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক তথা গবেষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত গোটা স্কুলটিকেই যেন গড়ে তুলেছেন প্রাকৃতিক গবেষণাগার হিসেবে। আর সেখান থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষকে এই পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কাঞ্চননগর ডি এন দাস বিদ্যালয় এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি দেওয়া হয় হাতে কলমে পরিবেশ রক্ষার পাঠও,বিদ্যালয় ঘুরলেই দেখা যায় পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা থেকে শুরু করে কাঠবেড়ালিদের জন্য ঘর সহ নানান ব্যাবস্থা যা পরিচর্যা করেন বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষকরাই।এমন কি বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে প্যাঁচার কলোনি আর এই প্যাঁচাই নিপা ভাইরাস নিধনে হতে পারে প্রধান অস্ত্র বলে দাবি ড. সুভাষচন্দ্র দত্তের।কোভিড-পর্বেও এই তামাম অঞ্চলের প্যাঁচা বাদুড় খেয়ে সাফ করে দিয়েছিল। এর ফলে নাকি বর্ধমানের উপকণ্ঠের কাঞ্চননগর, রথতলা, সাইফন এলাকায় সেভাবে থাবা বসাতে পারে নি কোভিড। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সায়েন্স জার্নালে সুভাষচন্দ্র দত্তের এই আবিষ্কার সমাদৃতও হয়েছে।তিনি বলেন, বাদুড় পলিনেশনে সাহায্য করে। তাই নির্বিচারে বাদুড় নিধন করাও উচিত নয়। তার গবেষণা বলছে,প্রকৃতি আমাদের অনেক অস্ত্র দিয়েছে। যেমন প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে পেঁচা বা তার মতো মাংসাশী পাখিরা বাদুড় খেয়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর পেঁচারা যে বাদুড় নিধনে পটু তা তাদের ভুক্তাবশেষ খুঁটিয়ে দেখে বুঝতে পারেন তিনি।
advertisement
ড. সুভাষচন্দ্র দত্তের কৃত্রিম বাসার মাধ্যমে পেঁচার কলোনি গড়ে তোলার এই যে নিরন্তর প্রচেষ্টা,তা একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে নিপা ভাইরাসের বাহককে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে শেখাচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে থাকার পাঠ।