আরও পড়ুন: বাংলাদেশ যদি ভারতে না আসে তা হলে বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে পারে ইউরোপের দেশ! কী বলছে তারা?
ভাগ্যের ফেরে সেই পথভোলা মানুষটি যখন পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে ভবঘুরের মতো ঘুরছিলেন, তখন তাঁর মাথার ওপর ঘনিয়ে এসেছিল বিপদের কালো মেঘ। বহিরাগত বা চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হওয়ার দোরগোড়া থেকে মনসুরকে উদ্ধার করে এক অনন্য মানবিক নজির গড়ল নারায়ণগড় থানার পুলিশ। সোমবার রাতে থানার বড়বাবুর ঘরে যখন নিখোঁজ স্বামীকে ফিরে পেলেন রোকেয়া, তখন আনন্দাশ্রু বাঁধ মানেনি কারও।
advertisement
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগড় থানার মকরামপুর এলাকায় এক যুবককে অসংলগ্ন অবস্থায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখেন গ্রামবাসীরা। তাঁর পরনে মলিন পোশাক, চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ, কথাবার্তাতেও ছিল না কোনও সামঞ্জস্য। বর্তমানে এলাকায় চোর বা ছেলেধরা নিয়ে নানা গুজব ছড়ানোর ফলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকার মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে— এই যুবক কোনো অপরাধী চক্রের সদস্য নয় তো? উত্তেজিত জনতা যখন তাঁকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদের তোড়জোড় করছিল, ঠিক তখনই খবর পৌঁছায় নারায়ণগড় থানায়।
ভারসাম্যহীন ওই যুবককে ঘিরে মানুষের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রথমে খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে কথা বলার পর তাঁর কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল নম্বর পায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই যোগাযোগ করা হয়পরিবারটির সঙ্গে। সোমবার রাতেই থানায় পৌঁছান স্ত্রী ও সন্তান।
পুলিশের অনুমান, কেরালা থেকে ফেরার পথে কোনও কারণে খড়গপুর স্টেশনে নেমে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মনসুর। ট্রেনের ধকল না কি অন্য কোনও মানসিক আঘাত, তা স্পষ্ট নয়। তবে মাসখানেক তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্বামীকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া রোকেয়া বিবি বলেন, “আজ পুলিশ বাবুরা তৎপর না হলে হয়ত আমার স্বামীকে আর জ্যান্ত ফিরে পেতাম না। ওরা আজ দেবতার মতো আমার পরিবারকে বাঁচিয়ে দিল।”
নারায়ণগড় থানার এই পদক্ষেপ ফের প্রমাণ করল, উর্দিধারীদের কড়া আবরণের ভেতরেও স্পন্দিত হয় এক গভীর মানবিক হৃদয়। মঙ্গলবার সকালে একরাশ স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতা সঙ্গী করে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেয় মন্ডল পরিবার।
