ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জার জন্ম লালবাগ শহরের বেগম মহলে। যদিও বর্তমানে সেই মহল আজ ধ্বংসপ্রায়। কিছু ভগ্ন দালান, বারান্দা টিকে আছে। চারিদিকে বড় বড় ঝোপঝাড় আছে। এক সময়ের এই মহল ছিল বিশাল। একদা ছিল নিজের বাসগৃহ, সেখানে তাঁর বেড়ে ওঠা, সেখানেই ছিল তাঁর কর্মজীবন। সাধারণের থেকে সাধারণ হয়ে তিনি আজ দিন কাটান। যদিও গভীর রাত্রে জেগে ওঠে অতীতের সেই সোনালি দিন। বর্তমানে ছোট নবাব রেজা আলি মির্জা সাইকেলে চেপে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে রেখেছেন। দিন রাত সাইকেলেই ঘুরে বেড়ান এ প্রান্ত থেকে সেই প্রান্ত। খোঁজ নেন কেমন আছেন শহরের মানুষজন। শহরের এক কোণে বসবাস করেন পরিবার নিয়ে।
advertisement
আরও পড়ুন : বিয়ের প্রতিশ্রুতির টোপে সম্পর্ক! শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কিশোরীর দেহ রেললাইনে ফেলল তার ইনস্টাগ্রাম-বন্ধু
বর্তমানে স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনি নিয়ে সংসারযাপন করেন ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা । ঘরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ইতিহাস। সিরাজউদ্দৌলাকে আজও মসনদে রেখে সম্মান জানান বর্তমানের এই ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা । আগে হাজারদুয়ারি চত্বরে কাজ করলেও এখন কোনও পেনশন পান না। তাঁর সন্তান বর্তমানে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা লোকাল ১৮ বাংলাকে জানিয়েছেন, এখন কোনও সরকারি ভাতা তাঁরা পান না। যা নিয়ে বারবার আবেদন করা হয়েছে। একাধিক মামলা চলছে যা আদালতে বিচারাধীন। কেন্দ্রীয় সরকার, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কাছে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আগে আমি চাকরি করতাম, কেয়ারটেকারের কাজ করতাম। আমি খুব কষ্টে সংসার চালিয়েছি। বর্তমানে আমার সন্তান হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক।’’
রাজপ্রাসাদ নেই। নেই রাজপাট। তবুও মানুষের মধ্যে হৃদয়ের মণিকোঠায় বেচেঁ আছেন অতীতের ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা ।