তদন্তে উঠে আসে, মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল ইলেকট্রনিক প্রমাণ—PW 3–এর মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা একটি ভিডিও ফুটেজ। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সি. সরকারের সাক্ষ্য আদালতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তদন্তকারীরা আদালতকে জানান, ডিজিটাল প্রমাণগুলো আইনসম্মতভাবে যথাযথ হেফাজতকারীর কাছ থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় তার সত্যতা মিলেছে।
advertisement
ভুক্তভোগীর মায়ের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে মেয়েটি দিদিমার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হয়। পরে বিকেলে অভিযুক্ত তাকে একটি আমবাগানে ডেকে নিয়ে যায় এবং একসঙ্গে মৃত্যুর প্ররোচনা দেয়। অভিযোগ, প্রথমে বিষ খাওয়াতে প্ররোচিত করা হয়, পরে অস্বীকার করলে জোর করে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে মেয়েটি অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায় এবং জানায় যে তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, মৃত্যুকালীন জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক টক্সিকোলজি ও ডিজিটাল ফরেনসিক—সব মিলিয়ে অভিযুক্তের অপরাধ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। বিচারক জিতেন্দ্র গুপ্তা আইপিসি-র ৩২৮ ও ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার, যদিও তারা আরও কঠোর সাজা প্রত্যাশা করেছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের পরিবার এই রায় মানতে নারাজ এবং উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
