গত বুধবার এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মোথাবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত কালিয়াচক এলাকা৷ কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসের ভিতরে প্রায় সারাদিন ধরে এসআইআর-এর নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত সাত জন বিচারককে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ৷ শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে আটকে থাকা বিচারকদের উদ্ধার করে৷ উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময়ও পুলিশের গাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ৷
advertisement
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ৷ ঘটনায় মূল চক্রী হিসেবে উঠে এসেছে আইনজীবী এবং মিম নেতা মোফেক্কারুল ইসলামের নাম৷ এ দিন সকালেই মোফেক্কারুল ইসলামকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি৷
অধীরের অবশ্য দাবি, এই ঘটনায় নিশ্চিত ভাবে তৃণমূল যুক্ত রয়েছে৷ বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর দাবি, এর পিছনে তৃণমূল আরামসে আছে আপনারা খুঁজলেই দেখতে পারবেন৷ মিমের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দিদি বরাবরই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে ফেলে সতী সাজার চেষ্টা করেন৷ এর পিছনে তৃণমূলের লোক থাকতেই হবে৷ বিচারকদের ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখে, এই ক্ষমতা আর কার আছে? এটা খুব স্বাভাবিক, দুই দুয়ে চার৷ তৃণমূল না থাকলে একজন মহিলা বিচারককে গাড়িতে বসিয়ে রাখা সম্ভব? তৃণমূল ছাড়া এই সাহস আর কারও হবে? বেলডাঙাতেও একই জিনিস হয়েছিল৷ তৃণমূল অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার পর সাধারণ মানুষকে ফাঁসানো হয়েছিল৷
কালিয়াচকের এই ঘটনায় প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টও৷ বিচারকদের কেন এভাবে আটকে থাকতে হল তা জানতে চেয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি, রাজ্যের মুখ্যসচিব, মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে শো কজ করেছে শীর্ষ আদালত৷ ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-কে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন৷ ঘটনায় উস্কানি দেওয়ায় অভিযুক্ত মোফেক্কারুল ইসলামকে গ্রেফতারের জন্য এ দিন সিআইডি-র প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী৷
