মুখ্যমন্ত্রীর এই সভাকে প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুর সফরের পাল্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে৷ তার উপর সামনে বিধানসভা ভোট৷ ফলে প্রায় চার বছর পর সিঙ্গুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুধবার বড় কোনও ঘোষণা করতে পারেন, এমন সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
বুধবার সিঙ্গুরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে বারুইপাড়া-পলতাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় রাজনৈতিক জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তার আগে ওই মঞ্চ থেকেই বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা এবং উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর৷
advertisement
নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার সিঙ্গুরে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আরও প্রায় ১৬ লক্ষ উপভোক্তার হাতে টাকা তুলে দেওয়ার পরিষেবার সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷
প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ির এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে আগামীকাল প্রথম কিস্তি ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার বাড়ির জন্য টাকা রাজ্য সরকার যে দেবে তা ঘোষণা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার পাল্টা সভা হিসেবে আগামিকাল সিঙ্গুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাংলার বাড়ির টাকায় তুলে দেবেন বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।
গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের সভা থেকে তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারকে দুর্নীতি, বিনিয়োগের অভাব, বেকারত্ব, নারী নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরের আলু সহ অন্যান্য ফসলের বিপণনে বিজেপি সরকার উদ্যোগী হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ যদিও সরাসরি সিঙ্গুরে শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে আসা নিয়ে তাঁর মুখে কোনও কথা শোনা যায়নি৷ প্রায় চার বছর পর সিঙ্গুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শিল্প নিয়েও বড় কোনও বার্তা দেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে৷ আগামিকাল সিঙ্গুরের সভা সেরেই দিল্লি রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর৷
সহ প্রতিবেদন- রানা কর্মকার
