একই সঙ্গে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি পরিচালিত যে ভ্যানিশ কমিশন রয়েছে, বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন, তারা মানুষের উপর অত্যাচার করার জন্য, যারা এলাকা চিনত, সে রকম ৫০ থেকে ১০০ অফিসারকে কেরল, তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিয়েছে। যাতে বিজেপির বেনামী টাকা ঢুকতে পারে। মাদক ঢুকতে পারে। গুন্ডা ঢুকতে পারে। বুলডোজ়ার ঢুকতে পারে। দাঙ্গা করতে পারে। বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন মানুষের উপর অত্যাচার করার জন্য কাজ করছে।”
advertisement
তেল আভিভে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু! সৌদি ঘাঁটিতে জখম ১২ মার্কিন সেনা, সংঘাতে নতুন উত্তেজনা!
আবাসন প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০০ ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে এবং আরও ৪০০০ ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনে স্থানান্তরিত হতে। “আমি জোর করছি না, আবেদন করছি”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিপদের কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, শিফটিংয়ের খরচ দেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বাস করেন। রামনবমী থেকে দুর্গাপুজো, ইদ থেকে বড়দিন—সব উৎসবই সমানভাবে পালিত হয়। সমাজে ঐক্যের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, “একটা আঙুল দিয়ে হাত মুঠো হয় না।” বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলিও তুলে ধরেন তিনি, যেমন বাউরি ও বাগদি উন্নয়ন বোর্ড গঠন।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম-এর অবদান। তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাবধারা একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরই উদাহরণ। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক সতর্কতা, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং সামাজিক বার্তার মিশেলে রাণীগঞ্জের সভা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
