কিন্তু একটি মুহূর্ত থেমে নিজেকে প্রশ্ন করুন: সেই চা তৈরি হল কীভাবে? যদি সেই ‘সদ্য প্রস্তুত’ উষ্ণতা কোনো আসনের নিচে চুপিচুপি জ্বলতে থাকা পোর্টেবল স্টোভ বা প্ল্যাটফর্মের কোণে লুকিয়ে রাখা গ্যাস বার্নার থেকে আসে, তবে আপনার সেই স্বপ্নের ভ্রমন নিমেষেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রতিবাদ করুন; কারণ রেলওয়ে আপনার সম্পত্তি এবং আপনার নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না।
advertisement
আরও পড়ুনঃ মরণফাঁদ পুলকারে ৪ খুদে! বর্ধমানে ‘দাবাং’ ট্রাফিক ওসির তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়াল
ভারতীয় রেল কেবল লোহা আর ইস্পাতের কাঠামো নয়; এটি আমাদের জাতির স্পন্দন এবং সবচেয়ে বড় কথা—এটি আপনার নিজস্ব সম্পত্তি। প্রতিটি কোচ, প্রতিটি বার্থ এবং প্রতিটি স্টেশনের মেঝে ভারতের নাগরিকদের স্বত্বাধীন। পূর্ব রেল আপনাদের যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ঠিকই, কিন্তু যাত্রীদের সতর্কতা ছাড়া সেই প্রচেষ্টা অপূর্ণ। ভারতীয় রেল যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সাথে আপনার মালিকানাধীন এক জাতীয় সম্পদকে রক্ষা করে চলেছে।
চলন্ত ট্রেনের সংকীর্ণ পরিসরে আগুন এক নিঃশব্দ শিকারি। সামান্য সুবিধার জন্য সৃষ্ট একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ এমন এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা জীবন কেড়ে নেয় এবং দেশসেবায় নিয়োজিত অমূল্য সম্পদ ধ্বংস করে দেয়। আপনার যাত্রা যাতে বিষাদময় ট্র্যাজেডি না হয়ে মধুময় স্মৃতি হয়ে থাকে, তা নিশ্চিত করতে পূর্ব রেল সমস্ত যাত্রীসাধারণের প্রতি রেল চত্বরে বা ট্রেনে দাহ্য বস্তু বহন বা ব্যবহার না করার জন্য এক কঠোর অথচ সনির্বন্ধ আবেদন জানাচ্ছে।
পূর্ব রেল যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রথম ঢাল হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। যদি কোনো যাত্রী কাউকে এই জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করতে দেখেন, তবে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন এবং অভিযোগ জানান। আপনাদের জীবনরেখাকে সুরক্ষিত রাখতে দয়া করে নিম্নলিখিত নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলুন:
• ভ্রাম্যমাণ রান্নাঘর নিষিদ্ধ: ট্রেনের কোচ বা প্ল্যাটফর্মে গ্যাস সিলিন্ডার, কেরোসিন স্টোভ বা রাসায়নিক হিটার বহন বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
• ধূমপানের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা: বিড়ি, সিগারেট বা হুক্কা জ্বালানো কেবল বিরক্তির কারণ নয়, এটি আগুনের একটি বড় উৎস।
• বর্জ্য নিষ্কাশন: জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি বা জ্বলন্ত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ট্রেনের ভেস্টিবিউল বা স্টেশনের ডাস্টবিনে কখনো ফেলবেন না।
• নিষিদ্ধ পণ্য: শুকনো ঘাস, বাজি, পেট্রোল, থিনার এবং কোনো প্রকার বিস্ফোরক গণপরিবহনে বহন করা আইনত দণ্ডনীয়।
আপনার ইন্দ্রিয়সুখের প্রলোভনকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এক কাপ সতেজ চায়ের পর সিগারেটে সুখটানের কথা ভাববেন না। এটি আপনাকে দুই দিক থেকে আঘাত করে—একদিকে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যহানি, অন্যদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা।
