ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল অদম্য ভালবাসা। ছোট হাতের আঁকা ছবিই নজর কেড়েছিল সকলের। স্কুল জীবনেই একের পর এক প্রতিযোগিতায় প্রশংসা পেয়েছে তার চিত্রকলা। সেই সাফল্যই এগিয়ে চলার সাহস জুগিয়েছে। পরে তিনি ভর্তি হন মেদিনীপুর আর্ট কলেজে। সেখান থেকে চিত্রকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পড়াশোনা করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ডিজাইনে। সেখান থেকেই চিত্রকলায় স্নাতকোত্তর। পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্পচর্চা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। একসময় জেলার একটি কলেজে শিল্পকলার শিক্ষকতাও করেছেন। ছাত্রদের মধ্যেও তিনি শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিলেন।
advertisement
আজ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে থিম তৈরির জন্য ডাক আসে তার কাছে। কলকাতার একের পর এক নামী দুর্গা পুজোর থিম তৈরি হয়েছে তার হাতে। টালা বারোয়ারী, পল্লী উন্নয়ন সমিতি থেকে শুরু করে রেলপুকুর ইউনাইটেড ক্লাব—সব জায়গাতেই রয়েছে তার কাজের ছাপ। দুর্গা পুজো হোক বা কালী পুজো, সরস্বতী পুজো—প্রতিটি মণ্ডপেই থাকে আলাদা ভাবনা। তার থিমে ফুটে ওঠে বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকশিল্প। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনও জায়গা পায় তার শিল্পে। মাটি, খড়, কাপড় আর রঙের মেলবন্ধনে তৈরি হয় অনন্য শিল্পকর্ম। তার তৈরি মণ্ডপ দেখতে সারা বাংলার দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে।
শুধু থিম মেকার হিসেবেই নয়, চিত্রশিল্পী হিসেবেও তার খ্যাতি সারা বাংলায়। বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে তার আঁকা ছবি। এপার বাংলা ছাড়িয়ে ওপার বাংলাতেও প্রশংসা পেয়েছে তার চিত্রকলা। সম্মান স্বরূপ মিলেছে একের পর এক পুরস্কার। নিজের শিল্পের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরছেন বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। সত্যিই সোমনাথ তামলীর মতো শিল্পী প্রমাণ করে দিচ্ছেন, হারিয়ে যাওয়ার এই যুগেও রং–তুলির কদর আজও অমলিন।
মদন মাইতি
