পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম-২ ব্লকের বিল্লেশ্বর পঞ্চায়েতের রসুই পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ঝুমাদেবীর জীবনযুদ্ধ শুরু হয় শ্বশুরের মৃত্যুর পর। শ্বশুর জগন্নাথ ঘোষ দুধ ও ছানার ব্যবসা করতেন। করোনা পরিস্থিতির কয়েক মাস আগে তাঁর মৃত্যু হলে সংসারের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তার উপর স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ। সংসারে উপার্জনের মতো কার্যত আর কেউ নেই। বাধ্য হয়েই ব্যবসার হাল ধরেন ঝুমা।নিজের সামান্য সোনার গয়না বিক্রি করে একটি মোপেড বাইক কেনেন তিনি। সেই বাইকই এখন তাঁর একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি দই ও ১০ কেজি ছানা নিয়ে বের হন।
advertisement
কাটোয়া মহকুমার বিভিন্ন গ্রাম শ্রীখণ্ড, কোশিগ্রাম, খাজুরডিহি, হরিপুর, গোয়াই, সুড্ডো-সহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন সব কিছু। বেলা গড়ানোর আগেই বেশিরভাগ পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। তার পর বাড়ি ফিরে আবার গরু ও মোষের খাবারের ব্যবস্থা করেন। বাড়িতে রয়েছে ১০টি গরু ও ২টি মোষ। পাশাপাশি দুই সন্তানের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। বড় ছেলে অর্ক সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, ছোট ছেলে আর্য পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। দই-ছানা বিক্রির উপার্জনেই তাঁদের পড়াশোনা চলছে।
আরও পড়ুন : অভাবের আঁধার পেরিয়ে উদ্ভাসিত পটচিত্র! কুপির ক্ষীণ আলোয় পড়ে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রথম স্নাতক হরিশচন্দ্র
ঝুমাদেবীর কথায়, “আমি না বের হলে সংসার অচল হয়ে যাবে। অসুস্থ স্বামী কাজ করতে পারেন না। ভোরে না উঠলে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। সন্তানদের মানুষ করাই এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য।”এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও কয়েক মাস ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। কারণ তাঁর কাছে কাজ বন্ধ মানেই আয় বন্ধ, আর আয় বন্ধ মানেই সংসারে অভাবের ছায়া।গ্রামবাংলার অসংখ্য সংগ্রামী নারীর মতোই ঝুমা ঘোষও নীরবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনও প্রচার নয়, কোনও দাবি নয়, শুধু দায়িত্ববোধ আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় সংকল্পই তাঁর পথচলার শক্তি।