এবছর ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দু’দিন ধরে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় এই অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের অংশগ্রহণে যেন সঙ্গীতের এক আন্তর্জাতিক মিলনমেলা বসেছিল আউশগ্রামে। ল্যাটভিয়া, হাঙ্গেরি, ডেনমার্ক ও স্পেন থেকে আসা শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব ঘরানার গান শোনান দর্শকদের।
advertisement
উদ্যোক্তাদের তরফে অমিতাভ ভট্টাচার্য বলেন, “শুধু শহরের মানুষ কেন? গ্রামের মানুষও উপভোগ করুক এই গান।” এর পাশাপাশি ছিল আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতধারার প্রতিনিধি সিদি গোমা সম্প্রদায়ের মনকাড়া পরিবেশনা এবং বাংলার প্রাচীন লোকসংগীত বাউল গান। বিশেষ আকর্ষণ ছিল মুক্ত মঞ্চে বিদেশি শিল্পীদের সঙ্গে একই সুরে ও তালে বাউল গান পরিবেশন করেন বর্ধমানের বাউল শিল্পীরা। বিদেশি সুরের সঙ্গে বাংলার বাউলের এই মেলবন্ধন দর্শকদের মুগ্ধ করে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বাউল শিল্পী গিরিশ বাউল বলেন, “আমার কাছে এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়, খুবই ভাল লাগছে।” সঙ্গীত উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ উপস্থিত হলেও, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। জঙ্গলমহলের মতো একটি প্রত্যন্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীদের এমন সঙ্গীত পরিবেশনা এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করে। অন্যদিকে, বিদেশি শিল্পীদেরও অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। বিদেশী শিল্পী আরাসেলী টিগানে বলেন, “আমার খুবই ভাল লাগছে এখানে। আর আমি এখানকার বাউল শিল্পীদের সম্মান করি।” সব মিলিয়ে, এত বিদেশি শিল্পীর আগমনে বিশ্ব সংগীতের ছোঁয়া পেল পূর্ব বর্ধমানের জঙ্গলমহল আউশগ্রাম, যা এলাকাটিকে দিল এক অনন্য সাংস্কৃতিক স্বাদ ও নতুন পরিচিতি।





