তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরে বসেই একটি চক্র নারী পাচার ও দেহব্যবসার রমরমা কারবার চালাচ্ছে। তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ওই তরুণী। সেই আক্রোশে তার ব্যবহার করা স্কুটারে তার অগোচরে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে দেওয়া হয়েছিল।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দেহ ব্যবসায় নামার জন্য ওই ছাত্রীকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় ওই ছাত্রী। এজন্য তাকে বার বার চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
advertisement
এর থেকে রেহাই পেতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মাঝেই শনিবার ভ্যালেন্টাইন ডে-র দুপুরে ওই ছাত্রী তার প্রেমিকের সঙ্গে বর্ধমানের গোলাপবাগ মোড়ে রেজিস্ট্রি ম্যারেজের ফর্ম পূরণ করে। সেখান থেকে বের হওয়া মাত্র পুলিশ ওই স্কুটারে তল্লাশি চালায়। স্কুটারের ডিকি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। ওই আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ঘটনায় শ্রীকান্ত দাস নামে ওই তরুণীর এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বিয়ে আটকাতেই তাঁর স্কুটারে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা হয়েছিল। সেই কাজে লাগানো হয়েছিল তার দূর সম্পর্কের এক মামাকে। তরুণীর পরিবারের প্রশ্ন, স্কুটারের মধ্যে যে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে তা পুলিশ কি করে জানলো। তবে কি ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে পুলিশের কারও যোগসাজশ রয়েছে?
মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই অস্ত্র ছাত্রীর ব্যবহার করা স্কুটারে রেখেছিল ধৃত ব্যক্তি? পরিবারের ধারণা, বিয়ে করে ওই পরীক্ষার্থী যাতে পাশের জেলায় তাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই এই ষড়যন্ত্র করেছিল নারী পাচার ও দেহব্যবসা চক্রের পাণ্ডারা। তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
