মা–বাবা গান পছন্দ করতেন না, তাই গান শিখতে পার্কে কাটিয়েছেন রাত! আজ তিনি জনপ্রিয় সংগীত গুরু!
শহরে কংগ্রেসের সভা অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু সভা করার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। তখনো এগিয়ে এল তাম্রলিপ্ত বা তমলুক রাজপরিবার। সেই সময় কংগ্রেসের নেতাগণ শরণাপন্ন হয় বৃদ্ধ রাজা সুরেন্দ্র নারায়ণ রায়ের। বৃদ্ধ রাজা রাজবাড়ীর অন্দরে খোসরঙের মাঠের ফলন্ত আমবাগান কেটে সুভাষচন্দ্রের সভার আয়োজন করেন। সভা শেষে নেতাজি তমলুকের কংগ্রেস নেতা সতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর বাড়িতে ওঠেন। বর্তমানে তাম্রলিপ্ত পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে এই বাড়িটি অবস্থিত। এ বিষয়ে আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ জয়দেব মালাকার জানান, “মূলত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে পুরুষ ও মহিলাদের জাগ্রত করতে সভা করতে এসেছিলেন তিনি। তৎকালীন কংগ্রেসী নেতারা নেতাজির সুরক্ষিত নিশি যাপনের জন্য ব্যবস্থা করেন বৈকুন্ঠধামে। যা বর্তমানে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। সবাশেষে নেতাজি বর্গভীমা মন্দির রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম ও তাম্রলিপ্ত পৌরসভায় যান।
advertisement
সন্ধ্যাবেলা তমলুকের কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার পর রাতে বৈকুণ্ঠ ধামে উপস্থিত হয়েছিলেন নেতাজি। তাকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন আশেপাশের নবীন- প্রবীণরাও। নিচে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর সোজা সিঁড়ি ধরে দোতালায় উঠে যান নেতাজি। সেখানেই কাটিয়েছিলেন রাত। পরদিন সকালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কাঁথির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।” তাম্রলিপ্ত শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে এই বাড়িটি আজও অবস্থিত রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু ইতিহাসের সাক্ষী। সেই সঙ্গে এই বাড়িতে পদধূলি পড়েছে বহু বিখ্যাত মানুষের।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছাড়াও তমলুকে এসে বাড়িতে রাত্রি যাপন করেছেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ও ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সহ বহু বিখ্যাত মানুষজন। স্বদেশী আন্দোলনের নেতা সতীশচন্দ্র সামন্ত, অজয় মুখোপাধ্যায় ও সুশীল ধারা সহ বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর যাতায়াত ছিল এই বাড়িতে। তমলুকের এই বাড়িটি তৈরি হয়েছিল ১৯২২ সালে। প্রায় ১০৪ বছরের প্রাচীন এই বাড়িটি আজও বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।