রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব৷ আদিবাসীদের অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে রাষ্ট্রপতি রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন, তা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র৷ এমন কি, রাষ্ট্রপতির এই অভিযোগের পিছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন গৌতমবাবু৷
গৌতম দেব বলেন, পুরো অনুষ্ঠানে আমি তিন চার ঘণ্টা ছিলাম৷ আমার জীব্বদশায় আমি দেখিনি এ ভাবে প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে সাংবিধানিক প্রধানের অনুষ্ঠান হয়৷ রাষ্ট্রপতি স্বয়ং দাঁড়িয়ে এরকম অভিযোগ করছেন, এমনটাও কোনওদিন দেখিনি৷ আমরা খুব মর্মাহত৷ ভোটের আগে তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই এখানে এসেছিলেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে৷
advertisement
শুক্রবার শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, শিলিগুড়ির বিধাননগরে অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ থাকলেও রাজ্য প্রশাসন সেই অনুমতি দেয়নি৷ তার বদলে সেখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বাগডোগরার গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ ফলে সাঁওতালি বহু মানুষ সেখানে পৌঁছতেই পারেননি৷ ক্ষোভ আড়াল না করেই রাষ্ট্রপতি বলেন, হয়তো প্রশাসন ভেবেছিল ওখানে কেউ যেতে পারবেন না৷ তাই রাষ্ট্রপতি এসে ফাঁকা জায়গায় অনুষ্ঠান করেই ফিরে যাবেন৷ সবকিছু দেখে আমি খুবই দুঃখিত৷ জানি না প্রশাসনের মনে কী ছিল৷ সাধারণত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম তো আসেননি৷ আমি তো বাংলারও মেয়ে৷ কিন্তু আমাকে তো এখানে আসতেই দেন না৷ মমতাদিদি আমারও ছোট বোন৷ জানি না, হয়তো আমার উপরে কোনও কারণে রাগ করেছেন৷
যদিও অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে রাষ্ট্রপতির অভিযোগ উড়িয়ে গৌতম দেব বলেন, উনি প্রথমে যে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সেখানে কোনও মানুষ আসেননি৷ এটায় তো রাজ্য সরকারের কিছু করার নেই৷ যে এনজিও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে এটা তাদের দায়িত্ব৷ রাষ্ট্রপতি ভবনেরও নজরদারি ছিল৷ এই সংস্থার চেয়ারপার্সন একসময় দ্রৌপদী মুর্মু ছিলেন৷ কেন লোক হল না তারা বলতে পারবে৷ শুধু শুধু রাজ্য সরকারকে কেন দোষারোপ করা হচ্ছে?
গৌতমবাবু আরও দাবি করেছেন, দিল্লি থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্তারা দেখে আজকের এই অনুষ্ঠানস্থল ঠিক করেন। গত ৬ মার্চ আজকের এই অনুষ্ঠানস্থলের অনুমোদন দেয় এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া৷ গত ৪ মার্চ জেলাশাসক রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠান অনুষ্ঠানস্থলের জন্য। এটা রাজ্যের কোনো কর্মসূচি ছিল না। রাষ্ট্রপতি ভবনের সবুজ সংকেতেই অনুষ্ঠানস্থল ঠিক হয়। কর্মসূচির যে তালিকা তৈরি করে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কারওর নাম ছিল না। এটা সরকারি অনুষ্ঠান ছিল না, ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে হাজির থাকতেই হবে, এরকম কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না৷
পাল্টা দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা অবশ্য দাবি করেছেন, প্রথম থেকে শিলিগুড়ির বিধাননগরেই এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল৷ তৃণমূল এবং রাজ্য সরকার মিলে সেই অনুষ্ঠান বাতিল করিয়ে গোঁসাইপুরে আয়োজন করেছে৷ বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, শেষ মূহূর্তে প্রশাসন এবং তৃণমূল বিধাননগরে অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এটা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বিধাননগরে পৌঁছে প্রমাণ করলেন, ওখানে অনুষ্ঠান হলে কোনও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হত না। আজকের অনুষ্ঠান ব্যর্থ করতেই এমনটা করেছে তৃণমূল এবং জেলা প্রশাসন।
