যেখানে বহু জায়গায় পায়ে ছুরি বেঁধে মোরগে মোরগে লড়াইয়ের মত খেলাগুলি এখনও হয়, সেখানে ঝাড়গ্রামের কিছু গ্রাম ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখানে মোরগ লড়াইয়ের পরিবর্তে বহু বছর ধরে চলে আসছে নারকেল লড়াই। আড়ম্বর কিছুটা কমলেও মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তির দিন এই খেলাকে ঘিরে গ্রামে গ্রামে আনন্দ উৎসব পালন করা হয়। পৌষ পার্বণ জঙ্গলমহলের অন্যতম প্রধান উৎসব।
advertisement
আরও পড়ুন: বাবাকে শাবল দিয়ে কুপিয়ে খুন, ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত!
এই দিন গ্রামের মানুষ নিজ নিজ বাড়ি থেকে একটি বা দুটি করে নারকেল নিয়ে আসেন। তারপর নারকেল দিয়ে জুটি তৈরি করা হয়। খেলার নিয়ম শুনলে অবাক হতে হয়। দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা দুই প্রতিযোগী একে অপরের দিকে নারকেল ছুঁড়ে মারেন। মাঝখানে দুটি নারকেল পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আঘাতে একটি নারকেল ফেটে যায়। যে নারকেলটি ফেটে যায়, সেটিকে পরাজিত ধরা হয়। যে নারকেল সবচেয়ে বেশি সময় অক্ষত থাকে, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: শববাহী গাড়িও ছাড়ল না মদ্যপ বাইকবাহিনী! অশোকনগরের রাস্তায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা
চলতি বছর পৌষ সংক্রান্তির দিন ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ২ ব্লকের জুনশোলা গ্রামে এই নারকেল লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়। প্রাচীন রীতি মেনে এই খেলায় অংশ নেন প্রায় শতাধিক প্রতিযোগী। শিশু থেকে বৃদ্ধ—আট থেকে আশি সকলেই এই অভিনব খেলায় মেতে ওঠেন।রক্তক্ষয়হীন, প্রাণহীন অথচ উত্তেজনাপূর্ণ এই নারকেল লড়াই আজও ঝাড়গ্রামের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।





