বাঁকুড়া জেলার জয়পুর থানার গেলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বুলটি দিগর ছোটবেলায় একটি দুর্ঘটনার পর থেকে কোমরের সমস্যায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখিয়ে ব্যথার ওষুধ খেয়ে কোনমতে তাঁর দিন কাটছিল। সম্প্রতি কোমরের ব্যথা এতটাই বেড়েছিল হাঁটাচলা করা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোতুলপুর বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সকলে জানায়, এই সমস্যার সমাধান করতে গেলে অস্ত্রোপচার করতে হবে, খরচ প্রায় ৪-৫ লক্ষ টাকা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ বয়স্ক ভোটকর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর! বক্সায় ভোটগ্রহণে আর যেতে হবে না, বিরাট সিদ্ধান্ত প্রশাসনের
অসহায় দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণে টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তাই তাঁরা একেবারেই নিরাশ হয়ে পড়েছিলেন। বুলটি যেহেতু হাঁটাচলা করতে পারছিলেন না, তাই বাড়ির লোক ভেবেছিল একটি হ্যান্ডিক্যাপ সার্টিফিকেট বের করলে সরকারের কিছু সুযোগ সুবিধা মিলতে পারে।
সেই অনুযায়ী এক মাস আগে ওই রোগী এবং তাঁর পরিবার বিষ্ণুপুর হাসপাতালের আউটডোরে আসেন এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডিক্যাপ সার্টিফিকেট বের করার জন্য যোগাযোগ করেন। সেই সময় বিষয়টি বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জেন ডক্টর সমীর জানার নজরে আসে।
চিকিৎসক দেখেন, ওই মহিলা AVN (AVACULAR NECROSIS OF FEMORAL HEAD) সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বিষ্ণুপুর হাসপাতালে তাঁর কাছে চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে চিকিৎসক সমীর জানা দেখেন, অপারেশনের মধ্য দিয়ে ৩৮ বছরের এই মহিলার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তবে এই অস্ত্রোপচার করতে গেলে কিছু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। তাই হাসপাতালের সুপার সহ একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করে বিষয়টি পর্যালোচনা করেন তিনি।
এরপর বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের CMOH এবং সুপারের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য দফতর থেকে প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে আনা হয়। অবশেষে রবিবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে এই বিরল অস্ত্রোপচার হয়। পরের দিনই রোগী নিজে থেকে বিছানায় উঠে বসেন এবং তাঁকে হাঁটানো হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন সফল হয়েছে এবং রোগী এখন অবজারভেশনে রয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল, সরকারি হাসপাতাল কোনও অংশে কম নয়। তাই ডাক্তারদের দাবি, সকলেই যেন নির্দ্বিধায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। এই অস্ত্রোপচারের পর ব্যাপক খুশি ওই রোগীর আত্মীয়রা। এখন ডাক্তার তাঁদের কাছে ভগবান।
