ঘরের ভিতরে ঢুকতেই দেখা গেল, হাতে হাতে মাটি মেশানো হচ্ছে, সুতলি পাকানো হচ্ছে গোলাকার আকারে। বাইরে থেকে দেখলে সত্যিই মনে হতে পারে বোমা তৈরি হচ্ছে। তবে প্রশ্ন করতেই সামনে এল আসল চিত্র—এগুলি কোনও বিস্ফোরক নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার অভিনব উদ্যোগ ‘বীজবোমা’।
advertisement
ভ্যাঁপসা গরমে টয়লেটে আটকে ছাত্র! বাইরে থেকে তালা! আড়াই ঘণ্টার আর্তনাদও পৌঁছল না পুলিশের কানে
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় গানের শিক্ষক দেবজ্যোতি আচার্য। পেশায় স্কুলশিক্ষক হলেও এলাকায় তিনি সংগীত শিক্ষক হিসেবেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে নিজের গানের স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তৈরি করছেন এই বীজবোমা এবং তাদের সেই প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।
দেবজ্যোতি আচার্যের কথায়, “এই বোমা কারও ক্ষতি করে না, বরং জীবন দেয়।” বীজবোমার ভিতরে থাকে আম, কাঁঠাল-সহ বিভিন্ন গাছের বীজ ও মাটি। বর্ষার জলে এগুলি অঙ্কুরিত হয়ে নতুন গাছ হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যেই তাঁর ছাত্রছাত্রীরা এলাকায় প্রায় ৭০টিরও বেশি জায়গায় এই বীজবোমা ছড়িয়ে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কথায়, শিক্ষক প্রথমে মাটি ও বীজ জোগাড় করে দেন। তারপর তারা নিজেরাই সেগুলি দিয়ে বীজবোমা তৈরি করে নির্দিষ্ট জায়গায় ছড়িয়ে দেয়। এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরাও। তাঁদের মতে, ছোটদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার এটি এক অভিনব এবং কার্যকর পদ্ধতি।
সংগীত শিক্ষালয়ের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন পুরস্কার ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে দেবজ্যোতি আচার্যের ছবি—যা এই উদ্যোগের স্বীকৃতিই বহন করছে। ইতিমধ্যেই তাঁর এই ভাবনা বহু মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
ভোটের আবহে যখন ‘বোমা’ শব্দেই আতঙ্ক ছড়ায়, তখন অশোকনগরের এই ‘বীজবোমা’ এক ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে—সবুজ বাঁচাও, পরিবেশ রক্ষা করো। উদ্যোক্তাদের দাবি, ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে এগিয়ে এলে পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে।