২৭ জানুয়ারি রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল নন্দকুমার থানা এলাকার রাঙামেটা গ্রামের সুলতানা খাতুন। বছর ১৬ এর সুলতানা খাতুন একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। এদিন সন্ধ্যেবেলা সুলতানা সহপাঠীদের সঙ্গে টিউশন পড়তে গিয়েছিল। টিউশন পড়ে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে নরঘাট থেকে তেরপেখ্যা যাওয়ার গ্রামীণ রাস্তার গিরিশচক এলাকায়। মাল বোঝাই ট্রাকের তলায় পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় সুলতানা খাতুনের। দুর্ঘটনা ঘটার পরই উত্তপ্ত হয় এলাকা। ক্ষিপ্ত জনতা ট্রাকটি আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে যায় নন্দকুমার থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার ধার দিয়েই সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল সুলতানা খাতুন। পেছনদিক থেকে আসছিল সরকারি ধান বোঝাই করা একটি ট্রাক। কোনভাবে সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে ট্রাকের চাকার তলায় পড়ে যায় সুলতানা। সুলতানাকে পিষে দেয় ট্রাকটি। ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সাধারণ মানুষের দাবি গ্রামীণ রাস্তায় এভাবে মাল বোঝাই ট্রাক যাতায়াতের জন্যই এই দুর্ঘটনা। তাই ক্ষিপ্ত হয়েই স্থানীয় জনতা ধান বোঝায় ট্রাকটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। রাস্তার ওপর দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে ট্রাকটি।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এদিন এই ঘটনার পরেই দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় নন্দকুমার থানা পুলিশ। দুর্ঘটনার স্থল থেকে উদ্ধার করা হয় সুলতানার মৃতদেহ। পাঠানো হয় তাম্রলিপ্ত গভারমেন্ট কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে। পুলিশকর্মীরাই ট্রাকটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন রাতের এই দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ পুরো গ্রাম। প্রসঙ্গত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জেলা জুড়ে জাতীয় সড়ক রাজ্য সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে একাধিক প্রদক্ষেপ নিয়েছে। আগের তুলনায় কমেছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ঘটনা ঘটছে। মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে গাড়ি চালকেরা।
