আচমকা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় ইউক্রেনে আটকে রয়েছেন বহু ভারতীয়। যার বেশিরভাগই মেডিকেল পড়ুয়া। অন্ডালের উখড়ার পর্ণশ্রী দাস (২২) মধ্যে একজন। উখড়া গ্রামের সুভাস পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নরেশ দাসের বড় মেয়ে তিনি।
পশ্চিম বর্ধমানঃ ইউক্রেনে আটকে অন্ডালের মেয়ে পর্ণশ্রী দাস। উদ্বিগ্ন গোটা ব্যবসায়ী পরিবার সহ মা ও বাবা।বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন এর মধ্যে যুদ্ধ। আচমকা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় সেখানে আটকে রয়েছেন বহু ভারতীয়। যার বেশিরভাগই মেডিকেল পড়ুয়া। অন্ডালের উখড়ার পর্ণশ্রী দাস (২২) মধ্যে একজন। উখড়া গ্রামের সুভাস পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নরেশ দাসের বড় মেয়েতিনি। বাবা ছাড়াও বাড়িতে রয়েছেন মা মৌসুমী দাস ও ছোটবোন মানসী দাস। পর্ণশ্রী-র প্রাথমিক শিক্ষা স্থানীয় বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। চিকিৎসা নিয়ে পড়তে ২০১৯ সালে পর্ণশ্রী পাড়ি দেয় ইউক্রেনে। সে দেশের টারনোপিল্ড শহরের টারনোপিল্ড মেডিকেল ইউনিভার্সিটি-তে ভর্তি হয়। থাকেন কলেজ সংলগ্ন হস্টেলে। পর্ণশ্রীর বাবা জানান, ক'দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা জেনে চিন্তায় ছিলাম। তবে সত্যি সত্যি যে যুদ্ধ লেগে যাবে এটা আশা করিনি। তিনি বলেন, বাড়ির সবাই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে আসুক এটাই প্রার্থনা। মা মৌসুমী দাস জানান, বেশ কয়েকবার মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। মেয়ে যে শহরে থাকে সেখানে এখনো যুদ্ধের আচ লাগেনি বলে মেয়ে জানিয়েছে। তবে মেয়ে বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত শান্তি নেই বলে তিনি জানান।পর্নশ্রীদের উখড়া গ্রামের বাড়িতে ভিডিও কলে পর্ণশ্রী জানায়, শহরে এখনো যুদ্ধ লাগেনি। তবে গতকাল রাতে শহরে সাইরেনের শব্দ শুনে আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল। আমরা দ্রুত হস্টেল ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম বাংকারে। পরে জানতে পারি মক টেস্টের জন্য সাইরেন বাজানো হয়েছিল। আজ সকালে ফের হোস্টেলে ফিরে এসেছি বলে জানায় পর্ণশ্রী। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে হস্টেল ছেড়ে বেরিয়ে আসার জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ এসেছে। দু - এক দিনের মধ্যেই ইউক্রেনের পার্শ্ববর্তী পোলান্ড অথবা অন্য কোন প্রতিবেশী দেশে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পর্ণশ্রী।