ছোট্ট ধাতব সেই যন্ত্রটি মুহূর্তেই কৌতূহলের জন্ম দেয়, আর ইন্টারনেট তার চিরাচরিত কাজটাই করে—জুম ইন, নানা রকম জল্পনা, আর একের পর এক মিম। কেউ একে চুইংগামের সঙ্গে তুলনা করেন, কেউ আবার মজা করে বলেন—মস্তিষ্কে বিজনেস আইডিয়া জমা রাখার জন্য লাগানো এক ধরনের এক্সটারনাল SSD।
এই ডিভাইস-এর নাম Temple। এটি একটি পরীক্ষামূলক ওয়্যারেবল, যা রিয়েল টাইমে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ট্র্যাক করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর পেছনের ভাবনাটি যতটা সহজ, ততটাই সাহসী। মস্তিষ্কে রক্ত কীভাবে প্রবাহিত হচ্ছে তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে স্নায়বিক স্বাস্থ্য ও বার্ধক্য সম্পর্কে আরও ভালভাবে বোঝা।
advertisement
মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহকে সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়, বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার—Temple কোনও পণ্য নয়।
এই ডিভাইসের প্রতি গোয়ালের আগ্রহ কোনও পডকাস্টের জন্য সাজানো কৌশল নয়। তিনি প্রায় এক বছর ধরে নিজেই এটি ব্যবহার করে পরীক্ষা চালাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, Temple-এর ধারণাটি আসে তখন যখন তাঁর টিম Gravity Ageing Hypothesis নামের একটি তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছিল।
মাধ্যাকর্ষণের টান মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং বার্ধক্যের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। এই ধারণা বিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল এবং বিতর্ক—দুটিই তৈরি করেছে, কারণ অনেকের মতে বার্ধক্য একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া, যাকে শুধু মাধ্যাকর্ষণের ওপর দায়ী করা যায় না।
আরও পড়ুন- দুর্বল নেটওয়ার্কেও হবে ঝকঝকে কল! BSNL চালু করল VoWiFi পরিষেবা, কীভাবে চালু করবেন এই ফিচার
এর পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগও। রিপোর্ট অনুযায়ী, গোয়াল নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২৫ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করেছেন Continue Research নামে একটি গবেষণা উদ্যোগে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এর লক্ষ্য কোনো পণ্য বাজারে আনা নয়, বরং কৌতূহলনির্ভর বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
