সেই সময় শুধুমাত্র দামি ফোনের তালিকাতেই জ্বলজ্বল করত Blackberry ফোনের নাম। আসলে iPhone-এর আগে স্মার্টফোনের দুনিয়া রাজত্ব করত এই ফোনই। কিন্তু এক সময়ের সেই রাজাই যেন নিঃস্ব কপর্দকশূন্য হয়ে গেল।
প্রযুক্তি ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে বড় পতনের সেই অধ্যায়ই শুনে নেওয়া যাক। ২০০০-এর গোড়ার দিকে স্মার্টফোনের দুনিয়ায় রীতিমতো আমূল পরিবর্তন এনেছিল BlackBerry। ব্যবসায়ীরা মূলত এই ফোনের নিরাপদ ই-মেল এবং QWERTY কি-বোর্ড বেশি পছন্দ করতেন।
advertisement
আরও পড়ুন- দেখলেই জিভে জল আসে, চাষ করলেই কোটি টাকা! কিন্তু ৩ রাজ্যেই চাষ করা যায়! জানেন কী?
কর্পোরেট দুনিয়ায় নিজের অনন্য ফিচারের জন্য জায়গা করে নিয়েছিল এই ফোন। এদিকে ২০০৯ সাল নাগাদ স্মার্টফোনের দুনিয়ায় রাজত্ব করতে শুরু করে BlackBerry।
বিশ্বের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি মানুষ BlackBerry ফোন ব্যবহার করতেন। এক সময় ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতাদের যেন স্টেটাস সিম্বল হয়ে উঠেছিল এই ফোন। এরপর ২০০৭ সালে বাজারে এল iPhone। আর ২০০৮ সালে বাজারে পা রাখল Android ফোন। উভয় ফোনের ক্ষেত্রেই আকর্ষণীয় ফিচার হয়ে উঠল টাচস্ক্রিন। সেই সঙ্গে ছিল একগুচ্ছ অ্যাপও।
যার জেরে মানুষ iPhone আর Android-এর দিকে ঝুঁকেছিলেন। কারণ এই ফোনগুলির মধ্যে ছিল প্রচুর অ্যাপ। ফলে Blackberry ফোনের সেল ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল। আসলে আরও দ্রুত আর বারবার নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসা উচিত ছিল BlackBerry-র। কিন্তু BlackBerry নিজেদের কি-বোর্ড ডিজাইনেই আটকে ছিল।
আরও পড়ুন- ইংরেজিতে সবথেকে লম্বা শব্দ কোনটি আপনি জানেন? একবারে উচ্চারণ করতে ব্যর্থ ৯৯ শতাংশ
সেখানে অন্যান্য ফোন নির্মাতা সংস্থাগুলি টাচস্ক্রিন এবং আরও ভাল অপারেটিং সিস্টেম আনার জন্য ক্রমাগত গবেষণা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে গিয়েছে। আর সেই কারণেই প্রথম স্থান বা শীর্ষ স্থান থেকে একেবারে পতন ঘটেছিল BlackBerry-র। ২০১৩ সালের মধ্যে BlackBerry-র বাজার ১ শতাংশেরও বেশি পড়ে গিয়েছিল।
আসলে iPhone and Android-এর মতো নতুন ফোনের সঙ্গে টক্কর দিয়ে বাজার ধরে রাখা BlackBerry-র পক্ষে একপ্রকার মুশকিল হয়ে পড়েছিল। কারণ মানুষের চাহিদাও বদলে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে ভুগতে হয়েছিল BlackBerry-কে।
যদিও নতুন ফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে একটা কামব্যাক করারও চেষ্টা করেছিল BlackBerry। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছিল। সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও BlackBerry কখনওই একরকম ছিল না। বাজারে নিজের জায়গা ধরে রাখার জন্যও প্রচুর লড়াই করতে হয়েছিল ওই সংস্থা।
এভাবেই ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের বাজার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় BlackBerry। বরং তারা সফটওয়্যার এবং পরিষেবার উপর মনোনিবেশ করে। কিন্তু BlackBerry-র ব্যর্থতা প্রযুক্তির ইতিহাসে একটা বড়সড় অধ্যায়। আসলে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার দরুন একেবারে ধরাশায়ী হয়েছিল BlackBerry-র বাজার।
