বর্তমানে স্ক্যামাররা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কল করে, তার পর কিছুই বলেন না। তাদের উদ্দেশ্য আপনার সঙ্গে কথা বলা নয়, বরং আপনাকে প্রথমে কথা বলার জন্য প্ররোচিত করা।
এই স্ক্যামের পদ্ধতি অত্যন্ত আধুনিক। স্ক্যামার আপনাকে কল করে, কিন্তু নিজে চুপ থাকে। আপনি যখনই “হ্যালো” বলবেন, সঙ্গে সঙ্গে আপনার কণ্ঠ রেকর্ড হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে AI অপারেট করে সবটা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কণ্ঠ AI টুলসের জন্য যথেষ্ট, যার মাধ্যমে আপনার কণ্ঠের একটি “ভয়েস ক্লোন” তৈরি করা যায়।
advertisement
কিন্তু বিষয়টি কেবল কণ্ঠ নকল পর্যন্ত সীমিত নয়। স্ক্যামাররা আপনার কথা বলার ধরণ, টোন এবং প্রতিক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করে, যাতে ভবিষ্যতে আপনাকে টার্গেট করা সহজ হয়। এই ধরনের কলের লক্ষ্য তাত্ক্ষণিকভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া নয়। স্ক্যামাররা ধীরে ধীরে আপনার তথ্য সংগ্রহ করে। তারা ট্র্যাক করতে পারে কখন আপনি কল ধরেন, কত দ্রুত উত্তর দেন এবং আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন হয়!
এই তথ্যের ভিত্তিতে তারা পরবর্তীতে আরও বিপজ্জনক স্ক্যাম পরিকল্পনা করে, যেমন পরিচিত কারো কণ্ঠে কল করা বা জরুরি পরিস্থিতির প্ররোচনায় টাকা চাওয়া। যদিও এই স্ক্যাম যে কারও সঙ্গে ঘটতে পারে। তবে কিছু মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বয়স্করা প্রায়শই কল ধরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন এবং বোঝার চেষ্টা করেন কী হচ্ছে! অনেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান, বিশেষ করে যদি মনে করেন জরুরি পরিস্থিতি রয়েছে। এছাড়াও যারা ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী এবং অজানা নম্বর থেকে কল ধরেন, তারা এই স্ক্যামের সহজ টার্গেট হতে পারেন।
আরও পড়ুন- এসি চললেও কমবে বিদ্যুতের বিল! এই সহজ টিপস মানলেই মাসে বড় সাশ্রয়, ছোট্ট ‘ট্রিক’ জেনে নিন
যদি আপনার কাছে এমন সাইলেন্ট কল আসে, তা হলে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো—কোনও কথা বলবেন না। “হ্যালো” বলা, প্রশ্ন করা বা কথোপকথন শুরু করার চেষ্টা করা—সবই আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকী কয়েক সেকেন্ডের কথোপকথনও স্ক্যামারের কাছে যথেষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে পারে। কল আসলে ফোন স্পিকার মোডে রাখুন এবং নিজে কিছু বলবেন না। চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ডে টিভি বা মিউজিক চালাতে পারেন, যাতে রেকর্ডিং অকার্যকর হয়। কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্টভাবে বা নেটওয়ার্ক সমস্যা মতো কথা বলেন, যাতে রেকর্ডিং-এর মান খারাপ হয়।
