জন্মদিনে ফিরে দেখা ভারতের গর্ব কল্পনাকে!
১৯৬২ সালে হরিয়ানার কর্নেলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কল্পনা। চার ভাই-বোনের মধ্যে কল্পনা ছিলেন সব চেয়ে ছোট। প্রথমে পঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। তার পর ১৯৮২ সালে আমেরিকায় পাড়ি দেন। ১৯৮৮ সাল। NASA-তে যোগ দেন কল্পনা। এর পর ১৯৯৫ সালে NASA-র মহাকাশযাত্রীদের কোর টিমের সদস্য হন।
advertisement
১৯৯৭ সালের ১৯ নভেম্বর। প্রথমবার মহাকাশে পাড়ি দেন কল্পনা। তিনিই প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯ নভেম্বর মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সময় কল্পনার বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। কলম্বিয়া STS-87 মহাকাশযানে চড়ে ১.০৪ কোটি মাইল পাড়ি দিয়েছিলেন। সেবার ৩৭২ ঘণ্টা মহাকাশে ছিলেন কল্পনা ও তাঁর সঙ্গীরা।
২০০১ সালে দ্বিতীয়বার কলম্বিয়া স্পেস শাটল STS-107-এর মহাকাশচারীদের তালিকায় তাঁর নাম নির্বাচিত হয়।
২০০৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। মহাকাশ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময়ে কলম্বিয়া স্পেস শাটল STS-107 তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। শিডিউল ল্যান্ডিংয়ে তখনও ১৬ মিনিট বাকি। এমন সময়ে এক দুর্ঘটনায় কল্পনা-সহ বাকিদের মৃত্যু হয়। তাঁর চেনা বায়ুমণ্ডলই তাঁকে ঘরে ফিরতে দেয়নি। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে কল্পনা-সহ ছয় সঙ্গী আকাশেই হারিয়ে যান। মিশন সফল হওয়ার পর সবাই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আর ফেরা হয়নি। সেই মহাকাশযানের ধংসাবশেষ ও যাত্রীদের দেহাবশেষ টেক্সাসে পাওয়া গিয়েছিল। গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
কল্পনার ছেড়ে যাওয়া আজও দেশ তথা গোটা বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। ২০০৩ সালেই তৎকালীন সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয় যে, মেটেরোলজিকাল স্যাটেলাইট সিরিজ MetSat-এর নতুন করে নামকরণ করা হবে। তখন থেকেই MetSat-এর নাম দেওয়া হয় কল্পনা। সম্প্রতি, কল্পনা চাওলার নামে একটি স্পেসস্টেশনের নামকরণ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অ্যারোস্পেস সংস্থা নর্থরোপ গ্রুমেন কর্পোরেশন (Northrop Grumman Corporation) তাদের স্পেসক্রাফ্ট-এর নামকরণ করেছে কল্পনার নামানুসারে।
পরের বছর অর্থাৎ ২০০৪ সালে কর্নাটক সরকারের তরফে মহিলা বিজ্ঞানীদের জন্য কল্পনা চাওলা অ্যাওয়ার্ড চালু হয়।
এখানেই শেষ নয়। কল্পনা চাওলার নামে একাধিক স্কলারশিপ, রাস্তা-ঘাট, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে।
