ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে এক আলোচনায় জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফের গবেষণা অনুযায়ী এআই বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এর ফলে কোভিড-১৯ অতিমারির আগের তুলনায় বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাঁর কথায়, দ্রুত প্রবৃদ্ধি আরও বেশি সুযোগ ও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, যা ইতিবাচক দিক।
গরমে ফ্রিজের এই ৩ ‘সেটিংস’ না বদলালে খাবার পচে যাবে! খারাপ হবে মেশিনও! সঠিক উপায় কোনটা?
advertisement
তিনি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য অর্জনযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে এবং ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, এআই সেই পথে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন জর্জিয়েভা।
তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তাঁর দাবি, বিশ্বজুড়ে ৪০ শতাংশ চাকরি এআই-এর প্রভাবে বদলে যাবে। উদীয়মান অর্থনীতিতেও প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ প্রভাবিত হবে, আর উন্নত অর্থনীতিতে এই হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তাঁর ভাষায়, এআই-এর প্রভাব চাকরির বাজারে ‘সুনামি’-র মতো হতে পারে।
এদিকে, ১৭ ফেব্রুয়ারি ইনফোসিস ইনভেস্টর এআই ডে ২০২৬-এ ইনফোসিসের চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানি বলেন, ভবিষ্যতে কেবল কোড লেখা আর মূল লক্ষ্য থাকবে না। এআই বিপ্লবের ফলে কাজের ধরন বদলাবে। কোডিং থেকে সরে এসে এআই সিস্টেমকে কার্যকরভাবে পরিচালনা ও সমন্বয়ের দিকে গুরুত্ব বাড়বে। তাঁর মতে, এআই বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ কোটি নতুন উচ্চ-বৃদ্ধির কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
নিলেকানির বক্তব্য, এটি কেবল প্রযুক্তির একটি নতুন স্তর নয়, বরং ব্যবসা পরিচালনার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। স্মার্টফোন বা ক্লাউড প্রযুক্তির আগমনের সময় যেমন বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সামান্য পরিবর্তন করে মানিয়ে নেওয়া যেত, এবার তা সম্ভব নয়। ব্যবসা পরিচালনার পুরনো পদ্ধতি আর চলবে না।
মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনীত চন্দোকও একই মঞ্চে বলেন, এআই কাজ পুরোপুরি ধ্বংস করবে না, বরং কাজের কাঠামো বদলে দেবে। চাকরিগুলিকে ছোট ছোট কাজ বা টাস্কে ভাগ করে নতুন ধরনের কর্মপদ্ধতি তৈরি হবে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এআই-এর প্রকৃত প্রভাব হবে কাঠামোগত রূপান্তর, সরাসরি কর্মচ্যুতি নয়।
