এতে শুধু আপনার টাকা সাশ্রয় হবে না, বরং বাইকের আয়ু বাড়বে এবং পরিবেশের ক্ষতিও কম হবে। আপনি যদি বাইক চালান এবং চান যে মাইলেজ কিছুটা হলেও বেড়ে যাক, তা হলে এই লেখা শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আমরা এমন ৫টি সহজ টিপস নিয়ে আলোচনা করব, যা প্রথম দিন থেকেই আপনার বাইকের ফুয়েল এফিশিয়েন্সি বাড়াতে সাহায্য করবে।
advertisement
১. নিয়মিত সার্ভিসিং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
প্রতি ২৫০০–৩০০০ কিলোমিটার বা ৩–৪ মাস অন্তর বাইকের সার্ভিস অবশ্যই করান। এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন, স্পার্ক প্লাগ পরীক্ষা করান, সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন এবং কার্বুরেটর/ফুয়েল ইনজেকশন ঠিকভাবে টিউন করান। নোংরা এয়ার ফিল্টার বা খারাপ স্পার্ক প্লাগ মাইলেজ ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। বাইক পরিষ্কার রাখলে ইঞ্জিন ভালভাবে কাজ করে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
২. সঠিক টায়ার প্রেসার॥
প্রতি সপ্তাহে টায়ারের এয়ার প্রেসার পরীক্ষা করুন এবং কোম্পানির নির্ধারিত মান অনুযায়ী (সাধারণত সামনে ২৮–৩২ PSI, পিছনে ৩২–৩৬ PSI) হাওয়া ভরুন। কম হাওয়া থাকলে রোলিং রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায় এবং বেশি জ্বালানি খরচ হয়। সঠিক প্রেসার রাখলে ৫–১০ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ বাড়তে পারে এবং নিরাপত্তাও বজায় থাকে।
৩. ইকোনমি স্পিড ও সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন
বেশিরভাগ বাইকের সেরা মাইলেজ ৪০–৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পাওয়া যায়। ৮০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতিতে না চালানোই ভাল এবং সঠিক সময়ে গিয়ার পরিবর্তন করুন। উচ্চ গিয়ারে কম RPM-এ চালালে কম জ্বালানি খরচ হয়। হঠাৎ অ্যাক্সিলারেট করা বা ব্রেক কষা এড়িয়ে চলুন—মসৃণভাবে চালালে ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে।
৪. ক্লাচ-এর সঠিক ব্যবহার
হাফ ক্লাচে বাইক চালাবেন না এবং ট্র্যাফিকে বারবার ক্লাচ চাপা-ছাড়া এড়িয়ে চলুন। সিগনালে ৩০–৪০ সেকেন্ডের বেশি দাঁড়াতে হলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। সকালে স্টার্ট দেওয়ার পর মাত্র ২০–৩০ সেকেন্ড ওয়ার্ম-আপ যথেষ্ট—ঠান্ডা ইঞ্জিন বেশি পেট্রোল খরচ করে।
আরও পড়ুন- জেলার প্রত্যন্ত গ্রামেও এবার মিলবে দ্রুত ইন্টারনেট! ওয়াইফাই ৭ এর অনুমোদন দিল সরকার
৫. বাইক হালকা রাখুন এবং ভাল জ্বালানি ব্যবহার করুন
অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, অতিরিক্ত ক্যারিয়ার বা প্যাসেঞ্জার সিটে বাড়তি ওজন রাখবেন না। অতিরিক্ত ওজন মাইলেজ কমিয়ে দেয়। চেন পরিষ্কার ও ভালভাবে লুব্রিকেটেড রাখুন। সবসময় ভাল মানের পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি নিন, ভেজাল জ্বালানি এড়িয়ে চলুন। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য গড়ে তোলে।
