এটি প্রশ্ন উত্থাপন করে: সমুদ্রের গভীরে গোপনে কাজ করা একটি সাবমেরিন কীভাবে এত সহজেই একটি বড় যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে? এটি বুঝতে, আমাদের সি-ব্যাট কী তা বুঝতে হবে, যা শব্দের মাধ্যমে তার শিকারকে শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে।
একটি সাবমেরিনকে “সমুদ্রের বাদুড়” বলা হয়:
একটি সাবমেরিন হল একটি যুদ্ধজাহাজ যা গোপনে কাজ করে, জলের পৃষ্ঠে নয়, বরং গভীরতায়। এটি তার সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি প্রচলিত রাডার দ্বারা সহজে দৃশ্যমান বা শনাক্ত করা যায় না। সাবমেরিনগুলি শত্রু জাহাজগুলি সনাক্ত করার জন্য সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি অন্ধকারে নেভিগেট করার জন্য বাদুড়ের পদ্ধতির মতো একই নীতিতে কাজ করে।
advertisement
অন্ধকারে উড়ে যাওয়ার সময় বাদুড় কিছুই দেখতে পায় না। তবুও, এটি কোনও গাছ বা দেওয়ালে ধাক্কা খায় না। কেউ কি কখনও ভেবে দেখেছেন কেন এটি হয়? আসলে, এটি শব্দ তরঙ্গ নির্গত করে। অথবা বরং, এটি একটি শব্দ নির্গত করে। বাদুড় একটি “চিক-চিক” শব্দ করে। এই শব্দ সামনের দিকে ভ্রমণ করে। যদি সামনে কোনও গাছ, দেওয়াল বা অন্য কোনও বস্তু থাকে, তবে শব্দটি বাদুড়ের কাছে ফিরে আসে। বাদুড় বস্তুর দূরত্ব, দিক এবং আকার নির্ধারণ করতে শব্দ ব্যবহার করে। এটি একটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান যা মানুষ সাবমেরিনের জন্য ব্যবহার করেছে।
সাবমেরিনগুলি জলের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ পাঠায়। যখন এই শব্দ তরঙ্গগুলি একটি জাহাজ থেকে ফিরে আসে, তখন তারা এর দূরত্ব, দিক এবং গতি অনুমান করতে পারে। এই কারণেই নৌযুদ্ধে সাবমেরিনগুলিকে প্রায়শই “সমুদ্রের বাদুড়” বলা হয়।
গোপন অনুসন্ধান এবং যথার্থ আক্রমণ:
এটা বিশ্বাস করা হয় যে আক্রমণের সময়, মার্কিন সাবমেরিনটি সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ১০০ থেকে ৩০০ মিটার নীচে কাজ করছিল। উপরে, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছিল।
জলের নীচে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিনটি সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করত। সাবমেরিনটি সম্পূর্ণ নীরব থাকার কারণে, এর উপরে থাকা জাহাজটি এর উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন ভার্জিনিয়া-শ্রেণীর সাবমেরিনগুলি এত কম শব্দ করে যে তাদের শব্দ কখনও কখনও জলের নীচে সাঁতার কাটা মানুষের চেয়ে কম শোনা যায়।
সাবমেরিনটি সঠিক দূরত্ব এবং অবস্থানে পৌঁছালে, এটি তার সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র: একটি টর্পেডো নিক্ষেপ করে। এটি একটি শক্তিশালী জলের নীচে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অস্ত্র যা সরাসরি তার লক্ষ্যবস্তুর দিকে ভ্রমণ করে।
টর্পেডো কী? এটি কীভাবে কাজ করে?
আধুনিক নৌযুদ্ধে টর্পেডোকে সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটি সাধারণত ৬ থেকে ৭ মিটার লম্বা এবং প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে জলের নীচে চলতে পারে। এটি ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক দিয়ে লোড করা হয় এবং এর পরিসীমা ২০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। এটিকে “ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট” অস্ত্র বলা হয়।
একবার টর্পেডো চালু হয়ে গেলে, এর কোনও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। এর ভেতরে থাকা একটি ছোট সোনার ডিভাইস শত্রু জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দ শনাক্ত করে এবং সেই দিকে চলতে থাকে। জাহাজের কাছে এলে এটি প্রচণ্ড শক্তিতে বিস্ফোরণ ঘটায়।
আরও পড়ুন: আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ সপ্তম দিনে! ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইজরায়েলের পাল্টা আঘাত! সংঘাতে জড়াল লেবাননও
টর্পেডো প্রায়শই জাহাজের ঠিক নীচে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পিছনে একটি বিজ্ঞান রয়েছে। যদি জাহাজের পাশে বিস্ফোরণ ঘটে, তবে এটি কেবল একটি বড় গর্ত তৈরি করতে পারে এবং কখনও কখনও জাহাজটিকে বাঁচানো যেতে পারে। তবে, যখন জাহাজের নীচে বিস্ফোরণ ঘটে, তখন জলের চাপ হঠাৎ করেই প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যায়। বিস্ফোরণের পরে তৈরি বিশাল বুদবুদ প্রথমে জাহাজটিকে উপরে তোলে এবং তারপরে হঠাৎ করে নীচের দিকে টেনে নেয়। এই প্রক্রিয়াটিকে “বাবল জেট এফেক্ট” বলা হয়। এই ধাক্কা কখনও কখনও বিশাল যুদ্ধজাহাজগুলিকেও ভেঙে ফেলতে পারে এবং তা দ্রুত ডুবে যেতে পারে।
