এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এটি একটি “গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”। তিনি চান, দ্রুত আইন পাশ হয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরু অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হোক। সেই কারণেই সরকারকে দ্রুততর আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
‘ইউনূস সুদখোর, খুনি, বিশ্বাসঘাতক!’ তীব্র আক্রমণ শেখ হাসিনার, ভোটের আগেই খেলা ঘুরবে বাংলাদেশে?
advertisement
রুপোর দাম চিনে কেন এত চড়া? কেজিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা বেশি! তফাৎ কোথায় জানেন?
ম্যাক্রোঁ বলেন, “১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পক্ষে বিজ্ঞানীরা কথা বলছেন এবং ফরাসি নাগরিকদেরও এটাই স্পষ্ট দাবি। আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়, তাদের স্বপ্ন অ্যালগরিদমের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।” তাঁর বক্তব্য, উদ্বিগ্ন প্রজন্ম নয়, ফ্রান্স, প্রজাতন্ত্র এবং তার মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এই আইন কার্যকর হলে ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করবে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নয়, অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যেকার ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ফিচার’-ও ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি বয়স যাচাইয়ের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন মেনে কড়া ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে প্ল্যাটফর্মগুলিকে।
এই কঠোর অবস্থানের পিছনে রয়েছে নাবালকদের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ। ম্যাক্রোঁ আগেও বারবার অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে হিংসা ও উদ্বেগ বৃদ্ধির যোগসূত্রের কথা বলেছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন, যেখানে গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যদিও এই আইন কার্যকর করা কতটা সহজ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু হলেও অনেক ক্ষেত্রেই নাবালকেরা নিয়ম এড়িয়ে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছে প্রশাসন। ফ্রান্সেও বয়স যাচাই ও প্রয়োগ নিয়ে চ্যালেঞ্জ থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবু সরকারের বক্তব্য, শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য এই আইন প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী।
