বিচারপতি মনোজ মিশ্রা এবং বিচারপতি মনমোহন-এর বেঞ্চ এই নির্দেশ জারি করেছে। উল্লেখ্য, আবেদনকারী হাসিন জাহান ৭ এপ্রিল ২০১৪-তে শামির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৭ জুলাই ২০১৫ সালে তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
২০১৮ সালে তিনি ‘Protection of Women from Domestic Violence Act, 2005’-এর ১২ ধারায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিবাহের পর তিনি ও তাঁর নাবালিকা কন্যা শামি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
advertisement
তিনি আরও জানান, বাধ্য হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা এফআইআর হিসেবে গণ্য হয়। এর ভিত্তিতে ৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে যাদবপুর থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ, ৩২৮, ৩০৭, ৩৭৬, ৩২৫ এবং ৩৪ ধারায় মামলা নথিভুক্ত হয়।
এছাড়া, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারায় ভরণপোষণের আবেদনও করেন। ২০১৯ সালের অগাস্টে আলিপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামি ও তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে সেশনস কোর্ট সেই কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয়, যা চার বছর বহাল ছিল। আবেদনকারী হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করলেও তা খারিজ হয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেশনস কোর্টকে এক মাসের মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত কার্যক্রম নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। গত বছর কলকাতা হাই কোর্ট শামিকে আবেদনকারী ও তাঁর কন্যাকে অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ হিসেবে প্রতি মাসে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে হাসিন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মাসিক ১০ লক্ষ টাকা ভরণপোষণের দাবি জানান।
আরও পড়ুন- ঝামেলা করল পাকিস্তান, ‘শাস্তি’ পাবে ভারত! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, বিশ্বকাপের বড় সুযোগে কোপ!
কন্যার সার্বিক বিকাশ ও উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে বর্তমানে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন হাসিন। তিনি গার্হস্থ্য হিংসা মামলা ও ভরণপোষণের মামলা কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের আবেদন করেছিলেন।
হাসিন জানান, শামির পরিবার উত্তরপ্রদেশের আমরোহাতে বসবাস করে। তাই দিল্লিতে মামলা স্থানান্তর করলে উভয় পক্ষের জন্যই সুবিধাজনক হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও লিগ খেলতে বিদেশ ভ্রমণকারী শামির পক্ষে দিল্লিতে মামলা লড়া আর্থিকভাবে সম্ভব।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর নিজস্ব কোনও আয়ের উৎস নেই এবং নাবালিকা কন্যার প্রতিদিনের লালন-পালন ও দেখাশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উপর। ফলে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে মামলা লড়তে বাধ্য করা হলে তাঁর জন্য তা মারাত্মক অসুবিধা ও ক্ষতির কারণ হবে।
