আজমউনের ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট এর ফলোয়ার সংখ্যা ৫ মিলিয়ন। কয়েকদিনের জন্য তার ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়। ইরানের ফুটবল এসোসিয়েশন তাদের ফুটবলারদের মাহসা আমিনির বিষয়ে কোনোভাবে জড়াতে নিষেধ করলেও তা বিন্দুমাত্র কানে দেননি আজমউন। প্রকাশ্যে হিজাব না পরার জন্য আমিনিকে ইরানের পুলিশ গ্রেফতার করে।
advertisement
প্রত্যক্ষদর্শিরা দাবি করেন, তাকে মারধর করা হয়। যদিও পুলিশ দাবি করে, পুলিশ স্টেশনে তার হার্ট এটাক হয় ও সে কোমায় চলে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, তা হিংসাও রূপ নেয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের খন্ডযুদ্ধে ৩০৪ জনের মৃত্যু হয় বলে সেই দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর।
তার ইনস্টাগ্রামে আজমউন লেখেন, সবচেয়ে খারাপ হলে আমায় জাতীয় দল থেকে বের করে দেওয়া হবে, কোনও সমস্যা নেই। ইরানের মহিলাদের সম্মান রক্ষায় তা ত্যাগ করতেও আমি প্রস্তুত। এই পোস্ট ডিলিট হবে না, তারা যা খুশি তাই করতে পারে, তোমাদের প্রতি লজ্জা, এত সহজে একজন মহিলাকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য, ইরানের মহিলারা দীর্ঘজীবী হোন।
এমনকি তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হলেও পিছিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না তারকা স্ট্রাইকার। এর জবাবে ইরানের ফুটবল এসোসিয়েশন দলের ম্যানেজার কার্লোস কুইরোজকে চাপ দেয় ২৭ বছর বয়সী আজমউনকে বিশ্বকাপের দলে না নেওয়ার জন্য। ইরানের মুখ্য দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত ৬৫ টি ম্যাচ খেলেছেন আজমউন, করেছেন ৪১ টি গোল।
এদিকে, বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ চলাকালীন ইরান সমর্থকদের আমিনির নাম বারবার উচ্চারণ করার জন্য সে দেশের সমাজকর্মীরা অনুরোধ করেছেন। ইরানের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আজমউন। স্বয়ং কিংবদন্তি আলি দায়ই তার প্রশংসা করেছেন। তবে এবার ইরানের মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে আজমউন যে সাহস দেখিয়েছেন তার জন্য তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব।
