বিশ্বকাপ ২০২৩-এর পর থেকে জাদেজার ওয়ানডে পারফরম্যান্সে স্পষ্টভাবে ভাটা দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে খেলা ১৩টি ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে করেছেন মাত্র দেড়শোর কাছাকাছি রান, যা তাঁর অভিজ্ঞতার তুলনায় খুবই কম। ভারতের টপ ও মিডল অর্ডার শক্তিশালী হওয়ায় জাদেজার ওপর বড় রানের চাপ না থাকলেও, ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে তাঁর অবদান প্রত্যাশার নিচে থেকে গেছে।
advertisement
গোলমালটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে তাঁর বোলিংয়ে। একসময় যিনি মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিতেন, এখন সেখানে তিনি তেমন প্রভাব ফেলতে পারছেন না। বিশ্বকাপ ২০২৩-এর পর ১৩ ম্যাচে মাত্র ১২টি উইকেট নেওয়া একজন অভিজ্ঞ স্পিন অলরাউন্ডারের জন্য চিন্তার বিষয়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই উইকেটগুলো নিতে গিয়ে তাঁর ইকোনমি রেটও বেড়ে গেছে।
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে জাদেজার পারফরম্যান্স এই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। ছয় ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট এবং ব্যাট হাতে অল্প কিছু রান—এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে তিনি নিজের সেরা ছন্দে নেই। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ধীরগতির ব্যাটিং দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
প্রাক্তন ভারতীয় পেসার জাহির খান মনে করেন, আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে শুধু রান আটকানো যথেষ্ট নয়। মাঝের ওভারগুলো এখন ম্যাচের মোড় ঘোরানোর সময়, যেখানে বোলারদের আক্রমণাত্মক হয়ে উইকেট তুলতেই হবে। এই দিক থেকে জাদেজা বর্তমানে পিছিয়ে পড়ছেন, কারণ তাঁর বোলিং অনেক সময় অনুমানযোগ্য হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে অক্ষর প্যাটেলের নাম স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে। অক্ষর ব্যাটিং ও বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই সাম্প্রতিক সময়ে জাদেজার চেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁর গতি পরিবর্তন, অ্যাঙ্গেলের ব্যবহার এবং সাহসী বোলিং তাঁকে ওয়ানডে ফরম্যাটে আরও উপযোগী করে তুলেছে।
ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারত আরও বিকল্প খুঁজছে। শামস মুলানি, মানব সুত্থার, সাই কিশোরের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের বামহাতি স্পিনারদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এমনকি বিপ্রজ নিগমের মতো তরুণ অলরাউন্ডারকেও পরীক্ষার তালিকায় রাখা হচ্ছে, যাতে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে একটি শক্তিশালী দল তৈরি করা যায়।
আরও পড়ুনঃ IND vs PAK: একই দিনে জোড়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ, কবে-কোথায় ক্রিকেট যুদ্ধ? জেনে নিন
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন একটাই—ওয়ানডে ক্রিকেটে কি রবীন্দ্র জাদেজার সময় শেষ হয়ে এসেছে? অভিজ্ঞতা ও অতীত সাফল্য তাঁকে এখনও মূল্যবান করে তোলে, কিন্তু বর্তমান ফর্ম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইংল্যান্ড সফর ও আসন্ন সিরিজগুলোই ঠিক করে দেবে, জাদেজা ওয়ানডে দলে থাকবেন নাকি নতুন প্রজন্ম তাঁর জায়গা নেবে।
