চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। ভারত ও পাকিস্তান সাধারণত শুধুমাত্র বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে নিরপেক্ষ ভেন্যুতেই একে অপরের মুখোমুখি হয়। তা না হলে দুই দেশের মধ্যে এখন আর কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয় না।
আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি-২০ বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়ে রহস্যের বাতাবরণ তৈরি করেছিল। বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ করেছিল, কিন্তু সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আইসিসি।
advertisement
পাকিস্তান তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। ১০ ফেব্রুয়ারি তারা মুখোমুখি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করার ফলে পাকিস্তান দীর্ঘ বিশ্রাম পাবে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে ফিরে আসবে ‘মেন ইন গ্রিন’।
পাকিস্তানের বয়কট সত্ত্বেও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলকে দুই পয়েন্ট পেতে হলে শ্রীলঙ্কা সফর করতেই হবে। টিম ইন্ডিয়াকে আইসিসি-র প্রোটোকল মেনেই চলবে। সূর্যকুমার যাদবদের ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনেও অংশ নিতে হবে। ভারতীয় দল ম্যাচের দিন নির্ধারিত সময় স্টেডিয়ামে পৌঁছবে। এরপর ম্যাচ রেফারির পক্ষ থেকে ম্যাচ বাতিলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য তারা অপেক্ষা করবে।
আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ম্যাচ থেকে তখনই পয়েন্ট ভাগাভাগি করা হয় যখন একটি দল মাঠে উপস্থিত থাকে এবং দ্বিতীয় দল খেলতে অস্বীকার করে। যদি উভয় দলই মাঠে উপস্থিত না থাকে, তা হলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হিসেবে গণ্য হয়। ভারত সময়মতো কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পৌঁছবে এবং ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবে।
২০০৬ সালে পাকিস্তান ঠিক এই কারণেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচ হেরে যায়। অন-ফিল্ড আম্পায়াররা বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তোলার পর চতুর্থ দিনে মাঠে নামতে অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান দল। ফলে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের পক্ষে ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন- IND vs PAK: টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান
আইসিসির নিয়মের ১৬.২.১ ধারা বলছে, মাঠে উপস্থিত থাকলে তবেই সংশ্লিষ্ট দল ২ পয়েন্ট পাবে। পাকিস্তান আগে ম্যাচ না খেলার কথা জানালেও ভারতীয় দলকে মাঠে থাকতে হবে। দুই দল মাঠে না থাকলে ম্যাচ পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা হবে। তখন আবার ভারতীয় দলকেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
