পাকিস্তানের প্রাক্তন স্পিনার দানিশ কানেরিয়া বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট করার পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত অন্যদের তুলনায় নিজেদের ক্রিকেটেরই বেশি ক্ষতি করবে।
পাকিস্তানের হয়ে ১০২৪টি ফার্স্ট ক্লাস উইকেট নেওয়া এই বোলার ভারতীয় দলের প্রশংসা করে তাদের টুর্নামেন্ট জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে যেভাবে টিম ইন্ডিয়া নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে, তা বিশ্বের প্রতিটি দলের মধ্যেই ভয়ের সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেন কানেরিয়া।
advertisement
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে, যার ফলে এমন মনে হচ্ছে যেন পাকিস্তান ভারতের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে, তাই তারা খেলতে অস্বীকার করছে।
রবিবার পাকিস্তান সরকার আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি ২০২৬-এ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে, তবে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না।
কানারিয়া বলেন, “পাকিস্তান আগে অনুরোধ করেছিল যে তারা ভারতে এসে খেলবে না, এবং সেই অনুরোধ মেনে নেওয়া হয়েছিল। তাই তাদের ম্যাচগুলো নিউট্রাল ভেন্যুতে নির্ধারণ করা হয়। এই বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা ছিল। এই ম্যাচ বয়কট করার কোনো যুক্তি নেই। পাকিস্তান মনে করছে তারা বাংলাদেশের সমর্থন করছে, যারা ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছে। কিন্তু তাদের নিজেদের ক্রিকেট এবং তার ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই সিদ্ধান্ত থেকে এমন বার্তা যাচ্ছে যে মানুষ ভাববে—পাকিস্তান ভারতের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে, তাই তারা খেলতে অস্বীকার করছে।”
“এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা নকআউট পর্যায়ে পৌঁছানোর পথ আরও কঠিন করে তুলেছে। আমার মনে হয় এটি খুবই ভুল সিদ্ধান্ত। যদি পাকিস্তান মনে করে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় হয়, তাহলে এখন আর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট আর সেই মানের ব্র্যান্ড ক্রিকেট খেলছে না, যেটা ভারত খেলছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হোক বা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ—ভারত প্রতিটি বিশ্বকাপের প্রতিটি পর্যায়ে পাকিস্তানকে হারিয়েছে।” বলেছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায়ে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে খেলতে হতে পারে—এই সম্ভাবনা নিয়ে কানেরিয়া বলেছেন,
“এই ধরনের সিদ্ধান্তের পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে হতে পারে, সেটা পিসিবি ভাবেনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিষয়টি মাথায় রাখেনি। আবেগে ভেসে, ভাবনা-চিন্তা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সিদ্ধান্ত সব সময় বিচক্ষণতা ও ভাবনাচিন্তার সঙ্গে নেওয়া উচিত। আপনি প্রথম ম্যাচ খেললেন না, কিন্তু যদি কাল সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হয়, তখনও কি ট্রফি বলবে যে আমরা ফাইনাল খেলব না?”
আরও পড়ুন- অধিনায়কত্বে চমক! ফিরলেন তিলক, প্রস্তুতি ম্যাচের স্কোয়াড ঘোষণা করল বিসিসিআই
তিনি আরও বলেন, “মাঠে নেমে লড়াই করা উচিত এবং সেখানেই জিতে প্রমাণ করা উচিত। তবেই মনে হবে সব কিছুর জবাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এভাবে ম্যাচ বয়কট করলে কোনও লাভ হয় না। আমার মনে হয় অনেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হবেন।”
