রিয়েল বুল ফুটবল কোচিং ক্লাবের সহযোগিতায় বর্ধমানে অনুষ্ঠিত হল ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ।
৫ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ সিজন টু- এ অংশ নিয়েছিল দেশের বিভিন্ন নামী দল। এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেয় কালীঘাট মিলন সংঘ, কলকাতার রেলওয়ে এফসি, ওড়িশা এফসি, গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স, সিএজি দিল্লি ও বর্ধমানের রাজনন্দিনী ফুটবল ক্লাবের মতো দলগুলি।
advertisement
ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের ফাইনাল ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত হয় ব্যারেটো মোহনবাগান বনাম বাইচুং ইস্টবেঙ্গলের প্রীতি ম্যাচ। মাঠে ছিলেন এমন একজন, যাঁর পায়ের জাদু ভারতের ফুটবল ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। যাঁকে সবাই ভালোবেসে ডাকে সবুজ তোতা বলে। গ্যালারির হৃদস্পন্দন, ব্রাজিলিয়ান ম্যাজিশিয়ান হোসে রামিরেজ ব্যারেটো। ব্যারেটো মানেই গোল, ব্যারেটো মানেই সবুজ-মেরুন আবেগ। মোহনবাগানের জার্সিতে যাঁর গোল সংখ্যা এবং দায়বদ্ধতা আজও বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা।
মাঠে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ফুটবলের সেই আইকন, যাঁর নাম শুনলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের রক্তচাপ বেড়ে যায়। হিমালয়ের পাদদেশ সিকিম থেকে উঠে আসা সেই প্রতিভা, ভারতীয় ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ এবং প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, বিশ্বের দরবারে ভারতীয় ফুটবলকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ ভদ্রেশ্বরের এই ফুটবল উৎসবে তাঁকে পেয়ে আপ্লুত হন দর্শকরা।
একসময় এই দুই নক্ষত্র যখন একসঙ্গে মাঠে নামতেন, তখন ডিফেন্ডারদের ঘুম উড়ে যেত। ব্যারেটোর নিখুঁত পাস আর বাইচুংয়ের বিষাক্ত ফিনিশিং— এই যুগলবন্দি ছিল ভারতীয় ফুটবলের এক সোনালি অধ্যায়। আজ দীর্ঘদিন পর এই দুই মহারথীকে আবার মাঠে পেল দর্শক।
এই নক্ষত্রখচিত মাঠে আরও এক মহানায়ক উপস্থিত আছেন। ফুটবলের সেই জাদুকর, যাঁর বাঁ পায়ের ডিবলিং আর উইং দিয়ে ঝড় তোলা দৌড় আজও বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের চোখের সামনে ভাসে। তিনি আর কেউ নন— ভারতীয় ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং সমর্থকদের নয়নের মণি অ্যালভিটো ডি কুনহা।
গোয়া থেকে এসে কলকাতাকেই যিনি নিজের ঘর বানিয়ে নিয়েছিলেন। মাঠে তাঁর বুদ্ধিমত্তা আর স্কিল ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে ডার্বি ম্যাচে তাঁর সেই অবিশ্বাস্য গোলগুলি আজও ফুটবল আলোচনায় বারবার উঠে আসে। নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হলে টাইব্রেকারে বাইচুংয়ের ইস্টবেঙ্গল জয়ী হয়।
