বৃহস্পতিবার অ্যাওয়ে ম্যাচে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে জামশেদপুর এফসি’র বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের। কোচ হুয়ান ফেরান্দো ভাগ্যিস স্প্যানিশ। চক্রবর্তী বা সেন পদবির কোনও কোচ হলে শহরে ফেরার আগেই চাকরি খোয়াতেন। এই ম্যাচ থেকে সান্ত্বনার এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে এল মোহনবাগান।
১৭ ম্যাচে দিমিত্রি পেত্রাতোসদের সংগ্রহ ২৮ পয়েন্ট। গোল না এলেও, আমরা অজস্র সুযোগ তৈরি করছি— সম্প্রতি এমন কাঁদুনি হামেশাই গেয়ে থাকেন ফেরান্দো। কিন্তু সুযোগ তৈরির জন্য কোনও পয়েন্ট পাওয়া যায় না, এই সহজ সত্যি কি তাঁর অজানা ? বৃহস্পতিবার অবশ্য সেভাবে সুযোগই তৈরি করতে পারলেন না দিমিত্রি-মনবীররা।
advertisement
মাঝমাঠে অজস্র মিসপাসের ফুলঝুরিতে আপফ্রন্টে সেভাবে বলই সাপ্লাই হল না। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে এদিন দলে ছিলেন না হুগো বোমাস। ফরাসি মিডিওর অনুপস্থিতিতে গালেগোকে খেলান ফেরান্দো। কিন্তু মাঠে তিনি ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরে বেড়ালেন। সদ্য দলে যোগ দেওয়া গ্লেন মার্টিন্সের সঙ্গে ম্যাকহাগের বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট ধরা পড়ছিল।
এছাড়া ছন্দে না থাকা লিস্টন কোলাসোর জায়গায় সুযোগ সদ্ব্যবহারে ব্যর্থ কিয়ান নাসিরিও। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতেই তিনি সাবলীল। হয়তো তাই উইংয়ে খাপ খোলা তরবারি হতে পারলেন না জামশিদ-পুত্র। এদিন জামশেদপুরের আক্রমণে ধার বেশি ছিল। প্রথমার্ধের অন্তিম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত তারা।
কিন্তু হ্যারির সাজিয়ে দেওয়া বল ফাঁকায় পেয়েও জালে ঠেলতে ব্যর্থ বরিস সিং। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। অবস্থা বেগতিক দেখে মনবীরকে তুলে সেই লিস্টনকে নামাতে বাধ্য হলেন সবুজ-মেরুন কোচ। তবে লাভের লাভ কিছু হয়নি। ৮২ মিনিটে অবশ্য প্রতি-আক্রমণে জেএফসি’র রক্ষণে ভয় ধরিয়েছিলেন গোয়ান উইঙ্গার।
কিন্তু বক্সের সামনে থেকে তাঁর দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দিমিত্রি অবশ্য একা কিছুটা চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তবে জেএফসির রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ তিনি। কোচ জানতেন রয় কৃষ্ণ এবং ডেভিড উইলিয়ামস চলে যাওয়ার পর একজন স্ট্রাইকার দরকার দলে। সেটার নেননি তিনি। এই দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
