তাঁর কথায় উঠে আসে “আমরা রাজনৈতিক হিংসা, জোরজবরদস্তি বা বলপ্রয়োগে বিশ্বাস করি না। সেই কারণেই, আমাকে মন্দিরে প্রবেশ করতে না দেওয়া হলেও আমি নীরবে শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, তিনি যেখানে আছেন, সেখান থেকেই তিনি প্রার্থনা শোনেন।”
সেই সময়ে তাঁকে মন্দিরে আটকানোর প্রসঙ্গে নিয়েও ঝাঁঝালো স্বরে আক্রমণ করেন তিনি। তিনি বলেন, “যিনি আমাকে আটকাতে চেয়েছিলেন, তিনি নিজের বুথেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে হেরে গেছেন। মানুষই প্রমাণ করে দিয়েছে, এই জায়গা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়।”
advertisement
ঠাকুরবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এইদিন অভিষেক বলেন, “ঠাকুরনগর ও ঠাকুরবাড়ি সবার জন্য অবারিত দ্বার। যে কেউ এখানে আসতে পারেন। এটি শ্রদ্ধা ও ভক্তির জায়গা। মানুষ এখানে শ্রদ্ধাপূর্বক আসে, মনের কথা জানায় এবং প্রার্থনা করে। এটাই এই মাটির রীতি ও সংস্কৃতি, এবং আজও এর কোনও ব্যতিক্রম হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এসব সত্ত্বেও আমাদের সরকার ঠাকুরবাড়ির ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। ঠাকুরনগর রেল স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নত করা হয়েছে, রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে এবং হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছে। আমরা কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু যারা রাজনৈতিকভাবে মতুয়াদের আবেগকে ব্যবহার করে পরে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের জবাব দিতে হবে।”
একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকেও তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন,”প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, তার একটিও তিনি পূরণ করেননি। বড় জাগুলিয়া পর্যন্ত ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক চওড়া করার কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। কল্যাণী এইমস পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি।
কেন্দ্রের সরকারকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “বাকিটা আমরা রাজনৈতিক ময়দানে বলব। সেখানে আপনারা যা খুশি বলতে পারেন। কিন্তু আমাদের বলুন, আপনাদের সরকার মতুয়া ভাইদের জন্য, এই মহকুমার মানুষের জন্য, এই জেলার মানুষের জন্য কী করেছে? বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়ে আসুন। আমরা আমাদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি, আপনাদের রিপোর্ট কার্ড কোথায়?”
