দল ছুট আতঙ্কিত হাতিটিকে বাগে আনতে রীতিমতো বেগ পেত হয় বনদফতরকে। আহত হন স্থানীয় রেঞ্জার। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় হাতিটিকে ট্রাঙ্ক্যুলাইজ করা হয়েছিল। ট্রাঙ্ক্যুলাইজড হাতিটিকে নিয়ে আসা হয় ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুওলজিক্যাল পার্কে।
এদিকে এই হাতিটিকেই বেলপাহাড়ির জঙ্গলে ছাড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও বনদফতর জানিয়েছে, কোনও হাতি নিয়ে তাঁরা ওখানে যাননি। তবে হাতিটিকে সুস্থ করার পর কোনও না কোনও জঙ্গলে ছাড়তেই হবে। আর সেই জন্য বনদফতরের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে জামবনি ব্লকের কাপগাড়ি, বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি, শিমূলপাল অঞ্চলের ঢ্যাঙ্গিকুসুম-সহ কয়েকটি জঙ্গল পরিদর্শনে জন্য বনদফতরের লোকজন গিয়েছিল।
advertisement
এদিকে রাতে বনদফতরের লোকজনকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। আধিকারিকদের উপর চড়াও হন তাঁরা। বনদফতরের একটি গাড়ির উপর ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপগড় পার্ক থেকে উদ্ধার হওয়া হাতিটি যথেষ্ট অসুস্থ। মঙ্গলবার পশু চিকিৎসকেরা তার ঘুম ভাঙাতে পারলেও হাতিটির শরীরে বেশ কয়েক জায়গায় গভীর ক্ষত রয়েছে। শুঁড় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গাতে আঘাত রয়েছে। ক্ষতগুলি নিরাময় হতে সময় লাগবে। বনদফতর মনে করছে হাতিটিকে হুলা দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। লোহার ফলার আঘাতেই ওই ক্ষতগুলি হয়েছে সম্ভবত।
আরও পড়ুন: কালবৈশাখীর বজ্রাঘাতে মর্মান্তিক মৃত্যু! একই সময়ে দুই মাঠে প্রাণ হারালেন দুই কৃষক
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বেলপাহাড়ি থানার ভুলাভেদা রেঞ্জের দলদলি এবং ভুলাভেদা বনদফতরের অফিসের পিছনে একটি মাকনা হাতির আক্রমণে এক মহিলা-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীদের মতে কয়েক দিন আগেই হাতির হানায় তিনজনের মৃত্য হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটে নি। তার উপর বনদফতর এই এলাকায় হাতি নিয়ে এসেছিল ছাড়ার জন্য। মানুষ তা মেনে নেয়নি। সেই জন্য প্রতিবাদ করেছিল।
অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের ডিএফও শেক ফরিদ সাফ জানিয়েছেন, কোনও হাতি বেলপাহাড়ির জঙ্গলে ছাড়তে নিয়ে যাওয়া হয়নি। গোপগড় থেকে উদ্ধার হওয়া হাতিটিকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হচ্ছে। হাতিটির শরীরে বেশ কয়েকটি আঘাত রয়েছে। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবে। হাতি জঙ্গলের জীব। এদের বেশি দিন আটকে রাখা যায় না। মঙ্গলবার রাতে কয়েকটি জঙ্গল পরিদর্শনের জন্য বনদফতরের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় গিয়েছিল। ঢ্যাঙ্গিকুসুমে গ্রামের লোকজন বাধা দিয়েছিল। পরবর্তীতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে হাতিটি কোথায় ছাড়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই বিষয় নিয়ে বন দফতরের চিকিৎসক জানান, তাঁদের খবর দেওয়া হয় অসুস্থ হাতি আনা হয়েছে তার চিকিৎসার জন্য। হাতিটি অসুস্থ রয়েছে তার সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এমনটাই জানিয়েছেন সুলতা মণ্ডল।
এই বিষয়ে প্রাক্তন ডিএফও সমির মজুমদারের বলেন, ‘‘পরিকল্পনা ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বন দফতর, তাই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। যেখানে নিয়ম রয়েছে কোনও হাতিকে অন্যত্র ছাড়ার আগে অনেকগুলি বিষয়ে বন দফতরকে ব্যবস্থা নিতে হয়, সে জায়গায় এখন পরিকল্পা ছাড়া কাজ হচ্ছে। তাই অনবরত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।’’ বন দফতরের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন ডিএফও।






