সতীর একান্ন পীঠের এক পীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা। বর্তমানেও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজিত হন মা, শক্তি পুজো শুরুর আগে রয়েছে অনুমতি নেওয়ার প্রথা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্ত বা তমলুকের আজও মধ্যমণি মা বর্গভীমা। কয়েক হাজার বছর ধরে শক্তি স্বরূপিণী আদ্যাশক্তি মহামায়া রূপে দেবী বর্গভীমার আরাধনা চলে আসছে। মতান্তরে তিনি ভীমরূপা বা ভৈরব কপালী নামেও পরিচিত। অতীতের প্রায় সব কিছুই ধ্বংসের মুখে চলে গেলেও স্বমহিমায় আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে এই সুবিশাল মন্দির।
advertisement
ওড়িশি স্থাপত্যের আদলে এই দেউলের উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটার অজস্র কাজ। তার মধ্যেই মন্দিরের গর্ভগৃহে কালো পাথরে তৈরি মায়ের মূর্তি বিরাজ করছে দেবী উগ্রতারা রূপে। তমলুকের শক্তিপীঠের প্রাচীন নাম বিভাস। দেবী এখানে বর্গভীমা বা ভীমারূপা নামে অধিষ্ঠিত। ভৈরব সর্বানন্দ মতান্তরে কপালী। মহামায়া সতীর দেহাংশের মধ্যে বাম গুল্ফ বা বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল এখানে। ১৪৬৬ খ্রিস্টাব্দ মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল কাব্যে গোকুলে গোমতী নামা তাম্রলিপ্তে বর্গভীমা এবং মার্কণ্ডেও পুরাণে আছে দেবী বর্গভীমার উল্লেখ।
দেবী ভক্তদের চারটি বর্গ দান করেন, তাই তার নাম বর্গভীমা। ইংরেজি নতুন বছরের শুরুর দিনে মায়ের পুজো দিয়ে বছর শুরু করতে চান বহু মানুষ। এরকমই মন্দিরে আসা এক ভক্ত সীমা সামন্ত জানিয়েছেন, “বছরের প্রথম দিন মায়ের পায়ে পুজো দিয়ে পরিবার ও সবার মঙ্গল কামনা করলাম। সবার জন্য সারা বছর ভাল যায়।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৫১ পীঠের একপীঠ দেবী বর্গভীমা মন্দিরে সকাল থেকে উপচে পড়া ভিড়। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মানুষজন নয় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ বিভিন্ন জেলার মানুষরা পুজো দিচ্ছেন। সকাল থেকে মায়ের মন্দিরে পুজো অর্চনা পুষ্পাঞ্জলি শুরু হয়েছে। বেলা যত বাড়ছে ততই মানুষের ভিড় বাড়ছে। সবাই চাইছে ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই সবাই যেন ভাল কাটে। অঞ্জলি ও পুজো দেওয়ার পাশাপাশি বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও দোকানের মালিকগণ তাদের খাতা পুজো দিয়ে বছর শুরু করছেন। তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে সেই চিত্র ধরা পড়ল।





