পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, ওই নাবালিকা জন্মের পর আদো আদো কথা বলতে শুরু করেছিল। কিন্তু পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকেই তাকে বাড়িতে বেঁধে রাখা হয়। কারণ বেঁধে না রাখলে সে যেখানে সেখানে পালিয়ে যায়। অর্থের অভাবে পরিবারের সদস্যরা তার চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গে কাঁপিয়ে বৃষ্টি উইকএন্ডে! সোমবার আরও বাড়বে বৃষ্টি, জানুন সর্বশেষ পূর্বাভাস
advertisement
অসুস্থ নাবালিকার বাবা কার্তিক বাগদি ভিক্ষা করে সংসার চালান। দিনে আয় বলতে ২-৩ কেজি চাল আর কিছু টাকা। আর এতেই কোন কোনওক্রমে সংসার চলে। মা শকুন্তলা বাগদি বাড়িতেই থাকেন, মেয়ের জন্য কোথাও কাজে যেতে পারেন না। নাবালিকার মা-বাবা জানান, দিন-রাত সবসময় বেঁধে রাখতে হয় মেয়েকে। খুব কষ্ট হলেও কিছু করার নেই। কোনও সরকারি ভাতা কিংবা সাহায্য পান না। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সরকারি সাহায্য পেলে চিকিৎসা করাতে পারতেন তারা।
বিডিও অফিস থেকে পঞ্চায়েত অফিস বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কাজ হয়নি। গ্রামবাসী পার্থ বাগদি জানান, বিডিও অফিসে গিয়ে ঘুরে আসতে হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান, মেম্বার প্রত্যেকেই জানানো হয়েছে বিষয়টি। পরিবারের অভিযোগ নেতারা ভোটের সময় আসে, চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ভোট চলে গেলে কেউ খবর নেয় না। দুবরাজপুরের বিডিও রাজা আদক জানান, ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক।
BMOH-র সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে প্রতিবন্ধি সার্টিফিকেট দিয়ে মানবিক প্রকল্পে মাসে ১০০০ টাকা করে যাতে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করব। তাদের কোনও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই, সেটাও যাতে হয় সেটাও ব্যবস্থা করব। ঘর নিয়ে কোনও বিষয় থাকলে সেটাও দেখব। সব সময় ব্লক প্রশাসন তার পাশে থাকবে। দুবরাজপুর ব্লকের তৃণমূলের যুগ্ম আহবায়ক রফিউল খান জানান, ঘটনার কথা শুনেছি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আমার যতটা সাহায্যক রার থাকবে আমি তার পরিবারের পাশে দাঁড়াব এবং সাহায্য করব।
Supratim Das
