ভাজার আগে গরম তেলে দিন জাস্ট এক চিমটে ‘ম্যাজিক’! পাতে উঠবে ফুলকো, ঝরঝরে সুগন্ধী লুচি!
তিনি ইংরেজিতে কথা বলে ভিডিও বানান। উচ্চারণে স্পষ্ট বাংলার ছাপ রয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও সংকোচ নেই। বরং আত্মবিশ্বাসই তাঁর শক্তি। তিনি বলেন, ইচ্ছে করেই ইংরেজিতে কথা বলেন। কারণ গ্রামের অনেক মানুষ যেন সবটা না বোঝে। গ্রামে ভিডিও করা মেয়েদের নিয়ে নানা কথা ওঠে। পাড়ায় পাড়ায় আলোচনা শুরু হয়। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেন না তিনি। এই সরল স্বীকারোক্তিই তাঁকে আলাদা করে তোলে। বঁটি চালাতে চালাতে তিনি কথা বলেন জাপানি চলচ্চিত্রকার তাকেশি কিতানোর সিনেমা নিয়ে। পাশে ছোট ছেলে খেলতে থাকে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি পড়েন ‘আ থাউজ্যান্ড স্প্লেন্ডিড সানস’। এক ভিডিওতে তিনি বলেন, অনলাইনে পরিচিতি বাড়লেও বাড়িতে তিনি শুধু একজন স্ত্রী আর পুত্রবধূ। সংসার, সন্তান আর দায়িত্বের ভিড়ে নিজের পছন্দ অনেক সময় হারিয়ে যায়। কিন্তু পুজারিণী সেই ভিড়ে নিজেকে হারাননি।
advertisement
কাজের ফাঁকেই নিজের জন্য সময় বের করেন। ছেলে ঘুমিয়ে পড়লে বই পড়েন। বিভিন্ন দেশের সিনেমা দেখেন। তবে তার এই যাত্রা কোনও পরিকল্পনার নয়। পুজারিণী ইংলিশ অনার্সের ছাত্রী। ২০২১ সালে মেদিনীপুর কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজি সিনেমা দেখতে দেখতেই বিশ্ব সিনেমার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। শুরুটা হয় খুব সাধারণভাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের ক্যাপশন তিনি শুধু ইংরেজিতেই লিখতেন। ধীরে ধীরে মনে হয়, নিজে কথা বলে কিছু বলা যায় কি না। কিন্তু সমাজ কী বলবে, মানুষ কীভাবে নেবে, তা বুঝে উঠতে পারেননি। তাই প্রথম ভিডিওটা ট্রায়াল হিসেবেই পোস্ট করেন। অপ্রত্যাশিতভাবে সেই ভিডিওতেই আসে প্রায় ছয় লাখ মানুষের ভালবাসা। এরপর একদিন রান্না করতে করতেই ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করেন তিনি। সেই ভিডিওই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। প্রায় ১৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তাঁর কথা।
ইংরেজিতে কথা বলার আরেকটি কারণও আছে। তিনি চান, শুধু ভারত নয়, তাঁর বার্তা পৌঁছাক সারা পৃথিবীতে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছিল। মেদিনীপুর সিটি কলেজে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পারিবারিক ও নানা কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়।
মেয়ে মানেই শুধু ঘরের কাজ, আর ছেলে মানেই বাইরের দুনিয়া—এই ধারণার বিরুদ্ধেই তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, আজকের মেয়েরা যদি রিলসে ডুবে না থেকে বই পড়ে বা ভাল সিনেমা দেখে, তাহলে তারা বাইরের জগতকে বুঝতে পারবে। যদিও তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক। তিনি চান না তার গ্রামের মানুষ তার সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যম থেকে জানুক। সূত্র ধরে তার বাড়ি গিয়েও পাওয়া যায়নি তার সাক্ষাৎকার।
